শেষ দিনে ফাঁকা সব বাস কাউন্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৯ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে গত ৫ আগস্ট। আজ (১২ আগস্ট) অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিনে ফাঁকা দেখা গেছে কল্যাণপুর ও গাবতলীর অধিকাংশ বাস কাউন্টার।

কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সব রুটের বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ। এসি/নন এসি কোনো টিকিট নেই। আজ অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিনে কাউন্টারে ভিড়ও নেই। তবে একরকম ভাগ্যগুণে দু'চারটি টিকিট কিনতে পারছেন কিছু যাত্রী।

এরকমই একজন ভাগ্যবান গাইবান্ধা রুটের যাত্রী রোকেয়া সরকার। রোববার দুপুরে তিনি কল্যাণপুরে হানিফ বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে বলেন, টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়েছিলাম, তবে কাউন্টারে যোগাযোগ ছিল। আজ হঠাৎই কাউন্টারে এসে ১৯ আগস্টের টিকিট চাইলে দুটি টিকিট পেয়ে যাই।

 

Bus-2

হানিফ পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান জানান, কিছু যাত্রী ২/৩টি করে টিকিট কিনেছেন, কেউ কেউ বুকিংও দিয়েছিলেন। তাদেরই মধ্যে এক যাত্রী টিকিট ফেরত দেয়ায় এ নারী যাত্রীর ভাগ্য খুলে যায়।

রোববার দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, কল্যাণপুর ও গাবতলী এলাকার শ্যামলী, হানিফ, ডিপজল, এসআর, ন্যাশনাল, দেশ ট্রাভেলস্, নাবিল, সোনিয়া, আগমনী পরিবহনের কাউন্টার ফাঁকা। বিক্রি শেষ হওয়ায় টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড় নেই। তবে ব্যস্ততা কাটেনি কাউন্টারে কর্মরতদের।

কল্যাণপুর শ্যামলী কাউন্টারের ম্যানেজার আলমগীর হোসেন জানান, এবার শ্যামলী পরিবহনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে কল্যাণপুর, শ্যামলী ও আসাদগেট কাউন্টার থেকে। সব রুটের সব দিনের পর্যাপ্ত টিকিট ছিল। বিক্রি শেষ, এখন চলছে হিসেব নিকেশ।

 

Bus-3

এসআর ট্রাভেলসের ম্যানেজার মো. আমিন নবী জানান, কাউন্টারের পাশাপাশি সহজের মাধ্যমে টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়ে গেছে। বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় যাত্রীদের সবাইকে টিকিট দেয়া সম্ভব হয়নি।

আল হামরা পরিবহনের ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের শুধুমাত্র গাইবান্ধা রুটে বাস চলাচল করে। টিকিট প্রত্যাশীরা প্রথম দিনেই সব কিনে ফেলেছেন। এখন কোনো চাপ নেই’।

নাবিল পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা নয়ন জানান, শুরু থেকেই তাদের কাউন্টারে কোনো টিকিট বিক্রি না হওয়ায় ভিড়ও ছিল না। সব টিকিট সহজ ডটকমের মাধ্যমে অনলাইনে বিক্রি শেষ হয়েছে।

 

Bus-4

এদিক গাবতলী হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারে এসে দেখা যায় মুঠোফোনে ব্যস্ত জেনারেল ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, অনেক সরকারি কর্মকর্তা টিকিট বুকিং দিয়েছিলেন। তারা এখন টিকিট নিচ্ছেন। আবার অনেকে টিকিট কিনে ফেরতও দিয়েছিলেন। হিসেব করে যেসব অবিক্রিত ছিল সেসব টিকিটই এখন সেল করা হচ্ছে। অনেকেই টিকিট চেয়ে পাননি। তারা যোগাযোগ করে টিকিট নিচ্ছেন। তবে মোদ্দা কথা কাউন্টারে টিকিট বিক্রির হিসেব ক্লোজড।

এর আগে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেল জাগো নিউজকে বলেন, সড়কপথে ঈদযাত্রা যাতে নির্বিঘ্ন হয় সেজন্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। যাত্রী সাধারণ যাতে পর্যাপ্ত টিকিট পান সেজন্য নতুন নতুন কিছু পরিবহনের বাসও নামানো হয়েছে।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে যদি ২২ আগস্ট ঈদ হয় তাহলে এক সপ্তাহ আগে থেকেই ঈদ যাত্রা শুরু হবে। ১৫ আগস্ট থেকে ঈদ যাত্রা ধরে ৫ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন বাস মালিকরা।

জেইউ/এমএমজেড/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :