কোটি টাকা নিয়ে এনজিও উধাও, গ্রাহকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৩:০৩ পিএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকায় অরগানাইজেশন অব সোশ্যাল সার্ভিস অ্যান্ড এলিমিনেশন অব পোভার্টি (ওসেপ) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর থেকে নগরীর কোতোয়ালী থানার জেলা পরিষদ ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে কয়েকশ গ্রাহক।

চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘খুলশী থানার ঝাউতলা এলাকায় ওসেপ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গ্রাহকরা চট্টগ্রাম আদালত ভবনে বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা করেছিল। এ জন্য তারা খুলশী থেকে মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ কার্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়। এ সময় বেশ কিছুক্ষণ তারা রাস্তায় বিক্ষোভ করলেও পরে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।’

এদিকে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নাসিরউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওসেপ নামে এক মাল্টিপারপাস কোম্পানি গ্রাহকদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছে বলে গ্রাহকেরা অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি টের পেয়ে গত শুক্রবার রাতে এসজিওটির কয়েক শ গ্রাহক ওসেপের ফিল্ড অফিসার জাহানারা বেগমের বাসা ঘেরাও করে। পরে রমেশ চন্দ্র দাস নামে প্রতারণার শিকার এক ব্যক্তি ৯ জনকে আসামি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’

এর আগে ২০১৬ সালে নগরের বাটালী হিল এলাকায় এ ধরনের কাণ্ড ঘটিয়েছিল ওসেপ। এরপর ওই এলাকা ত্যাগ করে খুলশী এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে পুনরায় একই ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহকদের সবাই শ্রমজীবী মানুষ। ওসেপ সমাজের খেটে খাওয়া নিরক্ষর কিংবা স্বল্পশিক্ষিত মানুষকে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে আমানত সংগ্রহ করে।

গ্রাহকরা জানান, গ্রাহক টানার বেশ কিছু কৌশল রয়েছে ওসেপের। দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক যেকোনোভাবে টাকা রাখা যাবে। গ্রাহকদের জানানো হয়- যত টাকা জমা দেবে, নির্দিষ্ট সময় পর তার ডবল অঙ্কের টাকা তাকে দেয়া হবে। তবে কেউ যদি এর আগে টাকা তুলতে চায় এক্ষেত্রে কিছু কম দেয়ার কথা ছিল। এই লোভে পড়ে দৈনিক বিশ, সপ্তাহে ১৪০, মাসিক ১ হাজার, এককালীন ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা দিয়েছেন তারা।

এমবিআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :