র‍্যাবের কোন ভূমিকায় কে থাকবেন, রিহার্সাল করান কাশেম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৮ পিএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৮

কেমন করে একজন সত্যিকারের র‍্যাবের অফিসারের ভূমিকা নিতে হবে। কীভাবে হ্যান্ডকাফ পড়ানো লাগবে। অপহরণ চক্রের সদস্যদের এভাবে র‍্যাব কর্মকর্তার আচরণ সম্পর্কিত রিহার্সাল করান চক্রটির মূল হোতা মো. কাশেম ওরফে জীবন। সোমবার রাজধানীর কাওলা এলাকা থেকে র‍্যাবের পরিচয়ে নানা অপরাধ সংগঠনকারী এই চক্রকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানিয়েছেন, কীভাবে তারা র‍্যাবের নামে অসংখ্য ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করেছেন।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. কাসেম ওরফে জীবন (৫৮), মো. ইব্রাহিম খলিল (৪০), মো. জাকির হোসেন সুমন (২৭), মো. বিল্লাল হোসেন ওরফে আসলাম (৩২), আব্দুল মন্নান (৫০), মো. সোহাগ (২৭), মো. আরিফ (২৮)।

vuya-2

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড অ্যামোনেশন, দুটি হ্যান্ডকাফ, একটি ওয়াকিটকি সেট, দুটি র‍্যাব জ্যাকেট, একটি র‍্যাব বোর্ড, দুটি সিগন্যাল লাইট, ছয়টি বড় লাঠি, দড়ি, চারটি চোখ বাঁধার কালো কাপড়, নগদ ২৮ হাজার টাকা এং একটি কালো গ্লাসের র‍্যাব স্টিকারযুক্ত হায়েস মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানায়, এই সংঘবদ্ধ দলটির স্থায়ী সদস্য ১০ থেকে ১১ জন। চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন নানাবিধ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। ফলে পরিচয়ের সূত্রে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে আরও ১৫ থেকে ২০ জন অপরাধী সম্পৃক্ত রয়েছেন। এই অপরাধ চক্রটি গত তিন থেকে চার মাস ধরে সংঘটিত হয়। তারা নিজেদের র‍্যাব হিসেবে উপস্থাপন করতে র‍্যাব জ্যাকেট, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকত। নিজেদের আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে, ভাড়া করা মাইক্রোবাসে র‍্যাবের ন্যায় স্টিকার ব্যবহার করত। অপরাধ চক্রটি বিভিন্ন হাইওয়েতে ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ নানাবিধ অপরাধ সংগঠিত করেছে। চক্রটি সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকে গ্রাহককে টার্গেট করে অপহরণপূর্বক অর্থ ছিনতাই করে।

র‍্যাব জানায়, সম্প্রতি এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংকের গ্রাহকদের অপহরণ ও অর্থ ছিনিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে নানাবিধ কৌশল অবলম্বন করে। প্রথমত তাদের দলের দুই-একজন সাধারণ ছদ্মবেশে ব্যাংকের বাইরে, দু-তিনজন গ্রাহকের ছদ্মবেশে ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং মূল দলটি মাইক্রোবাসযোগে সুবিধাজনক স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে। অতঃপর তারা সুবিধাজনক গ্রাহকদের শনাক্ত করতে চেষ্টা করে। যে গ্রাহক বেশি টাকা উত্তোলন করে কিন্তু নিজস্ব গাড়ি নেই সাধারণত তাদের টার্গেট করে থাকে। অতঃপর ভেতরের একজন ব্যাংক থেকে বের হয়ে এসে বাইরের জনকে টার্গেট বুঝিয়ে দেয় অথবা সরাসরি তারা মোবাইলের মাধ্যমে বাইরে অবস্থানরত দলকে জানিয়ে থাকে। এরপর মাইক্রোবাসটি পেছন থেকে অথবা কখনও সামনে থেকে এসে সুবিধাজনক স্থানে ভিকটিমের গতিরোধ করে মাইক্রোবাসে তুলে ফেলে। গাড়ির ভেতর ভিকটিমকে চোখমুখ বেঁধে ফ্লোরে শুয়িয়ে মাইক্রোবাস চলন্ত অবস্থায় নির‍্যাতন করে সব টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ভিকটিমকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়।

vuya-3

র‍্যাবের তদন্তে উঠে আসে, গ্রেফতাররা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে একজন ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে একজন ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে চার লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করে। এ ছাড়া অক্টোবরে আশুলিয়া-সাভার ইপিজেড এলাকা থেকে দুই লাখ, কুমিল্লার চান্দিনা কাঁচা বাজার থেকে একজনকে অপহরণ করে এক লাখ, কেরানীগঞ্জের আটিপাড়া বাজার থেকে সাত লাখ টাকাসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার মতো আদায় করে।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এআর/জেডএ/পিআর