ডেমরায় দুই শিশু হত্যার তদন্তে মানবাধিকার কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৩ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০১৯

মিরপুরে গৃহকর্মী খাদিজাকে নির্যাতনের ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের যথাযথ পদক্ষেপ নিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না -তা জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল জারি করার পর নড়েচড়ে বসেছে কমিশন।

রাজধানীর অপর একটি ঘটনা তথা ডেমরায় দুই শিশু হত্যার তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বুধবার এই কমিটি গঠন করা হয়।

ডেমরার মর্মান্তিক ঘটনা তদন্তে আজই তদন্ত শুরু করেছে কমিশন। তদন্ত কমিটির প্রধান কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল মাহমুদ সাইদুল কবীর। দুই সদস্য হলেন উপ-পরিচালক সুস্মিতা পাইক ও উপ-পরিচালক এম রবিউল ইসলাম।

বুধবার বেলা ৩টার দিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল মাহমুদ সাইদুল কবীর বলেন, ‘আজই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তিনি জানান, আমরা আজই ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। কাল সন্ধ্যার মধ্যে আমাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ডেমরায় একটি ফ্ল্যাট থেকে গত সোমবার (৭ জানুয়ারি) দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশু দুটি ওইদিন দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিল। রাত ৯টার দিকে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত দুই শিশুর নাম ফারিয়া আক্তার দোলা (৫) ও নুসরাত জাহান (৪)।

হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন গোলাম মোস্তফাকে গতকাল মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে যাত্রাবাড়ীর ভাঙ্গা প্রেস এলাকা থেকে প্রথমে গ্রেফতার করে ডেমরা থানার পুলিশ। মোস্তফার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এরপরই আজিজুলকে ডেমরার কাউন্সিলের মোল্লা ব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন দুই আসামি। বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডেমরা থানার উপ-পরিদর্শক শাহ আলম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম জসিম উদ্দিন তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বুধবার গ্রেফতারদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ফরিদ উদ্দিন বলেন, লিপস্টিক দিয়ে সাজিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ‘অসৎ উদ্দেশ্যে’ শিশু নুসরাত ও ফারিয়াকে ঘরে ডেকে নেয় গোলাম মোস্তফা। ভাই আজিজুল বাওয়ানীকে আগেই খবর দিয়ে বাসায় ডেকে আনেন তিনি। ঘরে ডেকে প্রথমে শিশু দুটিকে নিজের স্ত্রীর লিপস্টিক দিয়ে সাজায় মোস্তফা। এরপর তারা দুইভাই মিলে ইয়াবা সেবন করে শিশু দুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের চিৎকারে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ফারিয়াকে গলাটিপে হত্যা করে আজিজুল। আর নুসরাতকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে মোস্তফা।

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ডিসি ফরিদ উদ্দিন বলেন, শিশু দুটিকে ঘরে এনে আজিজুল ও মোস্তফা ইয়াবা সেবন করে। এরপর উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে দেয়। শিশু দুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তারা চিৎকার করে। তখন গানের শব্দ আরও বাড়িয়ে দেয়া হয়। এরপরও ব্যার্থ হয়ে তাদের হত্যা করা হয়। হত্যার পর আজিজুল পালিয়ে যায় আর মোস্তফা দুই শিশুর মরদেহ নিয়ে বাসায় থাকে। এক পর্যায়ে সে খাটের নিচে মরদেহ রেখে দেয়।

তিনি বলেন, মোস্তফার স্ত্রী সন্ধ্যার দিকে গার্মেন্টস থেকে বাসায় ফিরলে স্বামীর অস্বাভাবিক আচরণ দেখতে পান। মেঝেতে শিশুদের সেন্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় স্বামী-স্ত্রীর চিৎকার চেঁচামেচিতে আশেপাশের লোকজন টের পায় এবং পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মোস্তফা পালিয়ে যায়।

মোস্তফা সিরামিকের কারখানায় ও আজিজুল একটি বেকারিতে কাজ করতেন।

এফএইচ/জেডএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :