‘গোপন নথিতে বঙ্গবন্ধু’ বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ড উন্মোচন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পাকিস্তানি আমলের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংকলিত ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার বাংলা একাডেমির বইমেলায় বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বইটির মোড়ক উম্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বইটা বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এ ছাড়া এই দলিলে আপনারা অনেক তথ্য পাবেন।

তিনি বলেন, আমি জানি না পৃথিবীতে কেউ এ ধরনের প্রকাশনা করেছে কি-না। কারণ একজন নেতার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট এই সমস্ত তথ্য নিয়ে বই করাটাও সাহসের বিষয়। গোয়েন্দা সংস্থা তাকে অনুসরণ করে তিনি কোথায় যাচ্ছেন, কী করলেন, কী বললেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় তার কাছে যত চিঠিপত্র লিখেছেন এবং যোগাযোগ করেছেন সেসব তথ্য এসব ফাইলে স্থান পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ সালে সরকারে আসার পর আমি গোয়েন্দা রিপোর্টগুলো সংগ্রহ করি। সেগুলো সংগ্রহ করে কপি করে আমার কাছে রেখে আবার গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ফেরত দেই। গোয়েন্দা রিপোর্টে অনেক তথ্য রয়েছে। এর আগে অনেক ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে। আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সত্যকে জানার একটা বিরাট সুযোগ। কোনো নেতার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট প্রকাশ করার নজির আমার মনে হয় পৃথিবীতে আর নেই। কিন্তু আমি সে পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ তারপরও আমি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এই জন্য যে এসব তথ্য ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করবে। ৯৬ সালে যখন আমি এসব তথ্য সংগ্রহ করি তখন আমার সঙ্গে ছিলেন আমার বান্ধবী বেবী মওদুদ। এখন আর নেই তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার কথা সব সময় মনে হয় আমরা দুজন দিনের পর দিন এই রিপোর্টগুলো একসঙ্গে বসে পড়েছি। এখানে আমরা জানতে পারি যে এটা একটা অমূল্য সম্পদ। আমরা বাঙালি এবং বাঙালি হিসেবে পরিচয় দেই যার জন্য আমরা বাংলাদেশটাকে পেয়েছি সেই তথ্যগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ যে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এখানে প্রায় ৪০ হাজারের কাছাকাছি পাতা রয়েছে। প্রায় ২০ বছর আমরা এর ওপর কাজ করি।

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে আবার যখন আমরা সরকার গঠন করি তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এটা প্রকাশ করার। এ তথ্যগুলো আরও সমৃদ্ধ আকারে বের করার জন্য আমি আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীকে দায়িত্ব দেই। তার নেতৃত্বে ২০ থেকে ২২ সদস্যের একটা টিম রাত দিন অত্যন্ত পরিশ্রম করেছে তাদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে যারা আমাদের এই বই প্রকাশ করছেন হাক্কানী পাবলিশার্স তাদেরও আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এর জন্য আমরা আলাদা একটি অফিস করেছি। এটা মোট ১৪ খণ্ড বের হবে। কাজেই এখান থেকে আমরা অনেক তথ্য জানতে পারব।

দর্শকের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী ইতোমধ্যে আপনারা পড়েছেন। কীভাবে তিনি আন্দোলন-সংগ্রাম এগিয়ে নিয়েছেন। সেটাও দেখেছেন তিনি বন্দি অবস্থায় বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বৈঠকে রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম সম্পর্কে তার আত্মজীবনীতে অনেক তথ্য আছে। ভাষা শহীদদের রক্ত দেয়ার পরেও আন্দোলন সফল হয়নি। তারপরে আরও আন্দোলন করতে হয়েছে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের দাবিতে বঙ্গবন্ধু অনশন করে এর জন্য তাকে জেলে যেতে হয়েছে। এরপর খাজা নাজিম উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু করাচিতে চলে যান। সেখানে তিনি কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছি। ইতিহাস বলে অনেক আত্মত্যাগ রয়েছে ভাষার পেছনে। বাংলা একাডেমি বেশ কিছু কর্মসূচি নেয়ায় তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘটনা এসব আন্দোলনে যোগ সূত্র রয়েছে। কত ত্যাগ তিতিক্ষা, আন্দোলন করে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবি আদায় হয়েছে তা নতুন প্রজন্মকে জানানোর প্রয়োজন। সেজন্য এ বিষয়গুলো ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন।

বিরোধী দলে থাকতে এই মেলায় আসতাম ঘুরতাম কিন্তু এখন বলতে গেলে এক ধরনের বন্দি জীবনযাপন করতে হয়। আমি এখানে আসলে অন্যের অসুবিধা হয়। অন্যের যাতে অসুবিধা না হয় এবং কষ্ট না হয় সে কারণেই আসি না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেব। প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে এগুলো এসব ইতিহাস তুলে ধরা যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। দেশকে আমরা অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছি। এখন আমরা উন্নয়নশীল দেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে উঠবে বাংলাদেশ।

এবারের বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় কবি শঙ্খ ঘোষ, মিশরীয় লেখক-গবেষক মুহসেন আল আরিসি।

বইমেলার উদ্বোধন ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রী এবারের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া চারজনের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
কবিতায় কবি কাজী রোজী, কথাসাহিত্যে মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামাল, প্রবন্ধ ও গবেষণায় বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের জন্য গবেষক-কলামনিস্ট আফসান চৌধুরী এবার এ পুরস্কার পেয়েছেন।

মিশরীয় সাংবাদিক-গবেষক মুহসেন আল আরিসি তার লেখা ‘হাসিনা হাকাইক আসাতি’ বইটির একটি কপি এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

মুসলিম প্রধান একটি দেশে একজন নারী হয়ে নেতৃত্বে এসে শেখ হাসিনা কীভাবে মানুষের দিনবদলের রূপকার হয়ে উঠলেন, সেই বিবরণ এই বইয়ে তুলে ধরেছেন আরিসি। বইটির বাংলা তর্জমার শিরোমান ‘শেখ হাসিনা : যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয়’।

এফএইচএস/জেএইচ/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :