বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৯:৫২ এএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, আজীবন গণতন্ত্রী বঙ্গবীর জেনারেল মোহম্মদ আতাউল গনি ওসমানীর (এমএজি ওসমানী) ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (শনিবার)। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এই মহান সেনানায়ক মৃত্যুবরণ করেন।

দিবসটি উপলক্ষে তার কবর জিয়ারত, কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনাসভা ও দোয়া-মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বঙ্গবীর জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান ও মাতা জোবেদা খাতুন। বঙ্গবীর ছিলেন অসাধারণ মেধার অধিকারী। ১৯৩৪ সালে মেট্রিক পরীক্ষায় তিনি ব্রিটিশ ভারতের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এ অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ব্রিটিশ সরকার তাকে প্রাইটোরিয়া পুরস্কার প্রদান করে।

১৯৩৯ সালে এমএজি ওসমানী রয়েল আর্মড ফোর্স ক্যাডার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪২ সালে তিনি মেজর পদে উন্নীত হন এবং তৎকালীন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সর্ব কনিষ্ঠ মেজরের পদমর্যাদায় ভূষিত হন। ১৯৬৬ সালে অবসর গ্রহণের পর ১৯৭০ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং ১৯৭০ এর নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ এলাকা থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের পদ গ্রহণ করেন। যুদ্ধ পরিচালনায় তিনি রণাঙ্গনকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করেন। তার নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী সুসংগঠিতভাবে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেন।

ওসমানী জাদুঘর
বঙ্গবীর ওসমানীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট নগরের নাইওরপুলস্থ ওসমানী জাদুঘর আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে খতমে কোরআন ও দোয়া-মাহফিল, মরহুমের কবর জিয়ারত, বিকেল ৪টায় জাদুঘর প্রাঙ্গণে আলোচনাসভা এবং মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে সমাজের সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দের উপস্থিতি কামনা করা হয়েছে।

এছাড়াও, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও স্বেচ্ছাসবী সংগঠন বঙ্গবীর ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী পালনে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বঙ্গবীর ওসমানী জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন পরিষদ
বঙ্গবীর ওসমানী জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী বঙ্গবীর জেনারেল এমএজি ওসমানীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হবে।

এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ, সম্মানিত অতিথি থাকবেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হোসেন আহমদ, প্রধান বক্তা থাকবেন সিলেট জেলা বারের অ্যাডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম।

এদিকে, বঙ্গবীর জেনারেল এমএজি ওসমানীর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ এবং বঙ্গবীর জেনারেল এমএজি ওসমানী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ইউকের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার জুমার নামাজে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন মসজিদে মরহুম ওসমানীর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

শুক্রবার বিকেল ৪টায় বঙ্গবীর ওসমানী জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের কর্মকর্তা ও সদস্যরা হজরত শাহজালাল রহ. দরগাহ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মরহুম ওসমানীর মাজার জিয়ারত, শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, ফাতেহা পাঠ এবং মরহুম ওসমানীর রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন।

পরে দরগাহ মসজিদে এক মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কবর জিয়ারত এবং মিলাদ মাহফিলে দোয়া পরিচালনা করেন উদযাপন পরিষদের যোগাযোগ উপ-পরিষদের আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ এম এ মালেক খান। পরে দরগাহ গেটে একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠান।

বঙ্গবীর ওসমানী জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য-সচিব ও প্রধান সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফয়জুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় ওসমানীর অনুকরণীয় জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবীর জেনারেল এমএজি ওসমানী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ইউকে ও জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদ যুক্তরাজ্য চ্যাপটারের জয়েন্ট মেম্বার-সেক্রেটারি খান জামাল নজরুল ইসলাম, প্রবীণ সাংবাদিক-কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী, শাবিপ্রবির সাবেক রেজিস্ট্রার জামিল আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার মো. আব্দুর রউফ, আটাব সিলেট জোনের সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক বেলাল, সাবেক উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম মজুমদার, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার শেখ মশিউর রহমান প্রমুখ।

আলোচনাসভায় বক্তারা, বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানীর জীবন ও কর্মের রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন, জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী জাতীয়ভাবে পালন, পাঠ্য পুস্তকে ওসমানীর জীবন ও কর্মের অন্তর্ভুক্তি, বঙ্গবীর পদবী অন্য কেউ ব্যবহার না করা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ওসমানী চেয়ার’ চালু করার দাবি জানান।

ছামির মাহমুদ/বিএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :