১৯ মরদেহ শনাক্তে ৩৮ নমুনা সংগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৪ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
ফাইল ছবি

রাজধানীর চকবাজারে চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬৭ জনের মধ্যে ১৯ মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ৩৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। রোববার বেলা ২টা পর্যন্ত এ ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের তথ্য নথিভুক্ত করার দায়িত্ব পালন করা উপ-পরিদর্শক (এসআই) লোকমান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬৭ জনের মধ্যে শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত ৪৮ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নতুন করে কোনো মরদেহ হস্তান্তর করা হয়নি। সুতরাং এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত হিসেবে ১৯টি মরদেহ রয়েছে। এ মরদেহগুলো শনাক্ত করতে শনিবার পর্যন্ত ৩৬ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। রোববার নতুন করে আরও দু’জন ডিএনএ নমুনা দিয়ে গেছেন।

নতুন করে ডিএনএ নমুনা দিয়ে যাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন ইব্রাহীমের মেয়ে বৃষ্টি এবং শাহবুদ্দিনের বাবা হাসান আরিফ।

এসআই লোকমান বলেন, আমাদের কাছে তিনটি মরদেহ রয়েছে যাদের চেহারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এই মরদেহ তিনটির স্বজনরা শনাক্ত করলেই হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনে বুধবার (২০ ফেব্রুযারি) রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে আগুনের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত ও দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪১ জন। এদের মধ্যে দু’জনকে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯ জন। এদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা হলেন- জাকির (৩৮ শতাংশ), রেজাউল (৫৭ শতাংশ), মুজাফ্ফর (৩০ শতাংশ), আনোয়ার (২৮ শতাংশ) এবং সোহাগের শরীরের (৬০ শতাংশ) পুড়ে গেছে।

বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন বাকি চারজন ভালো আছেন। তাদের যে কোনো মুহূর্তে রিলিজ দিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ ও বার্ন ইউনিটের অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ নওয়াজেস খান।

এ চারজনের মধ্যে রয়েছেন- সালাউদ্দিন (১০ শতাংশ), হেলাল (১৬ শতাংশ), সেলিম (১৪ শতাংশ) এবং মাহমুদের শরীরের (১৩ শতাংশ) পুড়ে গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটনসহ দুর্ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্তের জন্য সুরক্ষাসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (অগ্নি অনুবিভাগ) প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি দোষীদের চিহ্নিত করতে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান, প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং অগ্নিদুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশ প্রদানে ১২ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

এমএএস/এএইচ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :