বোরো মৌসুমে ১৩ লাখ টন ধান-চাল কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৮ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৯

চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১৩ লাখ টন ধান ও চাল কিনবে সরকার। সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি সিদ্ধ চালের ৩৬ ও আতপ চালের ৩৫ টাকা ও ধানের ২৬ টাকা।

এবার মোট সংগ্রহের মধ্যে দেড় লাখ টন থাকছে ধান, যা কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কেনা হবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সাংবাদিকের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে এ ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

রোরো মৌসুমে মোট সাড়ে ১২ লাখ টন চাল সংগ্রহ করা হবে জানিয়ে খাদ্য মন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, দেড় লাখ টন আতপ চাল এবং দেড় লাখ টন ধান (এক লাখ টন চাল পাওয়া যাবে) আমরা কিনবো।’

বর্তমানে খাদ্য মজুদ ভালো রয়েছে। এখন চালের মজুদ প্রায় ১৩ লাখ টন বলেও জানান মন্ত্রী।

বোরোতে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ধান-চাল সংগ্রহের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়ে সাধন চন্দ্র বলেন, ‘আগস্ট পর্যন্ত বোরো সংগ্রহ অভিযান চলবে। এরপরও যদি দেখা যায় অ্যাভেইলঅ্যাবেল এবং আমাদের গোডাউনে যদি ক্যাপাসিটি থাকে তবে আরও কিনবো।’

‘কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি দেড় লাখ টন ধান কিনলে তাতে বাজারে অবশ্যই একটা ইম্প্যাক্ট পড়বে’ বলেন খাদ্যমন্ত্রী।

এবার বোরো ধান ও চালের উৎপাদন ব্যয় কত পড়েছে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকের প্রতি কেজি চালের উৎপাদন ব্যয় ৩৪ টাকার বেশি পড়ে না। আরও কম পড়ে। একেক কৃষকের একেক রকম উৎপাদন মূল্য হয়। যে কৃষক বর্গা নিয়ে চাষ করে তার একরকম হয়, যার নিজের জমি তার একরকম হয়।’

এ সময় খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) আরিফুর রহমান অপু উৎপাদন ব্যয়ের বিষয়ে বলেন, ‘বিষয়টি হচ্ছে মার্কেট প্রাইসের উপর। এখন মার্কেট প্রাইস ৩০ টাকা। ৩৬ টাকার বেশি হলে মার্কেটটা অস্থিতিশীল হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী প্রতি কেজি বোরো চালের উৎপাদন ব্যয় রংপুরে ৩৩ টাকা, রাজশাহীতে ৩২ টাকা, ঢাকায় ৩৬ টাকা। মার্কেট প্রাইস ধরে ও কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় হয় সেই চিন্তা করে একটা মাঝামাঝি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটা সবার জন্য মঙ্গল হবে।’

সরকার বেশি দামে চাল সংগ্রহ করলে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে যাবে বলেও জানান ডিজি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ‘এবার যদি হাওরের পুরো ধান নষ্ট হয়ে যায় তবুও আমরা আগামী ৩/৪ মাস আমাদের সব কর্মসূচির চাল দিতে পারব, ক্রাইসিস হবে না। আর ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট থেকে চাল আনতে গেলে ২ থেকে আড়াই মাস সময় লাগে। আমরা মনে করি আল্লাহ না করুন যদি কোন বিপর্যয় ঘটে ইনশাআল্লাহ কোন সমস্যা হবে না।’

কৃষকের স্বার্থ ও ভোক্তার স্বার্থ সমন্বয় করে বোরো সংগ্রহের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান খাদ্য সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ।

খাদ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এনামুর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক সহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/জেএইচ/এসএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :