মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় ‘বডি ল্যাংগুয়েজ’ পরিবর্তন দরকার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০১৯

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় বাংলাদেশের ভাষা আরও কঠোর হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।

রোববার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর বিস (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ) মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সাথে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনায় বাংলাদেশের বডি ল্যাংগুয়েজের পরিবর্তন আনা জরুরি।’

ঢাকার কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাব ‘রোহিঙ্গা ক্রাইসিস : ইন্টারন্যাশনাল রোল ফর টেনজিবল সলিউশন ইন রাখাইন’ শিরোনামে এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে অন্যান্যদের মাঝে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রতিনিধি স্টিভেন কর্লিস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমুদ্রসীমা অনু বিভাগের সচিব খুরশীদ আলম অংশগ্রহণ করেন। ডিক্যাব সভাপতি রাহীদ এজাজ সেমিনারে সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিক্যাব সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিব।

মূল আলোচনায় অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। এ জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু এখন সময় এসেছে মিয়মানমারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ক্ষেত্রে ‘বডি ল্যাংগুয়েজ’ অবশ্যই চেঞ্জ করতে হবে বা ভাষা আরও কঠোর হতে হবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কূটনীতির ক্ষেত্রে ‘বডি ল্যাংগুয়েজ’ কী হতে পারে তার উদাহরণ ১৯৭১ সালে ভারতের তখনকার প্রধানন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।

ড. ইমতিয়াজ বলেন, রাখাইনে মিয়ানমার নিষ্ঠুরভাবে গণহত্যা চালিয়েছে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের প্রতিবেদনেই তথ্য-উপাত্ত রয়েছে, যেটা প্রমাণিক দলিল হিসেবেও গ্রহণযোগ্য। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ শুধু রোহিঙ্গাদের উপর নয়, অন্যান্য জাতিগোষ্ঠির উপরও একই ধরনের জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে। অতএব আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার বিচার অনেক বেশি সহজ। কারণ, এ ক্ষেত্রে গণহত্যার প্রমাণও সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে রাখাইন গণহত্যার বিচারের দাবি জোরদার করা হলে এবং বিচার শুরু হলে সেটা রাখাইনের উপর মারাত্মক চাপের সৃষ্টি করবে। আন্তর্জাতিক জোরালো চাপ ছাড়া মিয়ানমার রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে আগ্রহী হবে -এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।

জেপি/আরএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]