রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৭:১৬ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজারে এসেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

সোমবার বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছেন তিনি।

এ সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং জোলির আশপাশের এলাকায় কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে যেতে দেয়া হয়নি। ইউএনএইচসিআর সংশ্লিষ্ট ও প্রশাসনের লোক ছাড়া কেউ জোলির সঙ্গে ছিলেন না। সফরে আসা জোলি ২০১২ সাল থেকে ইউএনএইচসিআর’র বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছেন।

jolly

সোমবার সকালে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে তিনি কক্সবাজারে পৌঁছান। কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্লেন থেকে নামা অ্যাঞ্জেলিনার হাস্যোজ্জ্বল ছবি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। বিমানবন্দর থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় জোলিকে ইনানীর তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপে নিয়ে যাওয়া হয়।

ইউএনএইচসিআর’র আরেক শুভেচ্ছা দূত বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে বিব্রতকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করায় জোলির সময়ে কড়া নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প সূত্র জানায়, ইউএনএইচসিআর’র বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন। নির্যাতনের শিকার নারীদের সঙ্গে কথা বলে সে সময়কার বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন। এ সময় রোহিঙ্গারা দোভাষীর মাধ্যমে তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্মমতার বর্ণনা দেন।

jolly

চাকমারকুল ক্যাম্পের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গা আবদুল আলীম জানান, বিশ্বের নামকরা সব মানুষ আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি দেখতে আসছেন আর চলে যাচ্ছেন। সময় গড়ালেও আমাদের কি উপকার হচ্ছে তা বুঝতে পারছি না। নাগরিকতার স্বীকৃতি নিয়ে নিজ দেশে ফেরার প্রতিক্ষা আমাদের শেষ হবে কবে?

এর আগে ইউএনএইচসিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে তিনদিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ঢাকায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমিন এবং সরকারের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ইউএনএইচসিআর কীভাবে বাংলাদেশ সরকারকে আরও সহযোগিতা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবেন জোলি। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত এই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মানুষের সমস্যা সমাধান কীভাবে নিরাপদ ও টেকসই উপায়ে করা সম্ভব, সে বিষয়েও আলোচনা করবেন এই অভিনেত্রী।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দমনপীড়ন শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এরপর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। এখন প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/জেআইএম

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :