শিশু ধর্ষণে ভাঙল অতীতের রেকর্ড

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৪৬ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৯
প্রতীকী ছবি

চলতি বছর জানুয়ারি-এপ্রিল (২৯ তারিখ পর্যন্ত) চার মাসে ২৯০ শিশু ধর্ষিত হয়েছে। প্রথম তিন মাসে যথাক্রমে ৫২, ৬০, ৫২ করে ১৬৪ শিশু ধর্ষিত হয়েছে। শুধুমাত্র এপ্রিলেই ধর্ষণের শিকার ১১৫ শিশু। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৭০টির অধিক শিশু ধর্ষিত হয়েছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) এক জরিপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত শিশু অধিকার লঙ্ঘনের সংবাদ পর্যালোচনা করে সংগঠনটি।

জরিপে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের চেয়ে এ বছর (৪ মাসে) শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ২৪ শতাংশ। সব ঘটনা পত্রিকায় আসে না। প্রকৃত সংখ্যাটা আরও বেশি হবে বলে মনে করে বিএসএএফ।

বেশ কিছুদিন ধরে গণমাধ্যমে শিশু ধর্ষণের নানা মর্মান্তিক চিত্র উঠে আসছে। ধারাবাহিকভাবে এসব ঘটনা ঘটতে থাকায় এবং এসব ঘটনার নৃশংসতায় নাগরিক হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন।

বিএসএএফের মতে, শিশু ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার কারণ মূলত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া, দুর্বল চার্জশিট, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে দরিদ্র অভিভাবকের আসামির সঙ্গে আপস করতে বাধ্য হওয়া এবং সর্বোপরি সামাজিক মূল্যবোধের ব্যাপকমাত্রায় অবক্ষয়।

এসব প্রতিহত করতে আরও ত্বরিত হস্তক্ষেপ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ও দফতরসমূহকে অনুরোধ জানান হয় বিএসএফের পক্ষ থেকে।

তারা বলেন, শিশু যৌন নির্যাতন বন্ধে দ্রুত বিচারের আওতায় শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো নিতে হবে। প্রচলিত আইন সংশোধন করে শিশু ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়ে সেই সঙ্গে রায় দ্রুতগতিতে কার্যকর করতে হবে। প্রয়োজনে আইনের সংশোধন করতে হবে। বিষয়টি এখন আর কোনোভাবেই উপেক্ষার পর্যায়ে নেই। শিশু ধর্ষণের অপরাধ জামিন অযোগ্য করা খুবই জরুরি।

তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার দ্রুত এসব ঘটনার প্রকৃতি ও পুনরাবৃত্তিকে বিবেচনায় রেখে বিদ্যমান সুরা ব্যবস্থাগুলোকে পর্যালোচনা করবে এবং প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব এজেন্সিসমূহকে সে অনুযায়ী নির্দেশনা দেবে। প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদে তার শৈশব কাটাতে পারে, সে পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনসাধারণের সচেতন ও অধিকতর দায়িত্বশীল আচরণ এখন সময়ের দাবি।

এফএইচএস/জেএইচ/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।