ঈদের আগেই পাট শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের সুপারিশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৬ পিএম, ১৬ মে ২০১৯

ঈদুল ফিতরের আগেই পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মির্জা আজমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, ইসরাফিল আলম, রনজিত কুমার রায়, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, খাদিজাতুল আনোয়ার ও তামান্না নুসরাত (বুবলী) বৈঠকে অংশ নেন।

কমিটির সভাপতি মির্জা আজম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দ্রুত পাওনা পরিশোধ করতে বলেছি। একই সঙ্গে কোনো ভুয়া শ্রমিক যাতে বেতন না পায় সে জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।’

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ইসরাফিল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বলেছি, ঈদের আগেই শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করতে হবে। তবে শ্রমিকরা যাতে তাদের টাকা পায় সে জন্য ব্যাংক হিসাবে তাদের বকেয়া পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।’

ঈদের আগে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই করতে হবে। সরকারকেই টাকা দিতে হবে।’

বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলে ২৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বকেয়া থাকায় ৯ দফা দাবিতে গত কয়েকদিন যাবত লাগাতার ধর্মঘট করছেন তারা। গত ৬ মে থেকে দ্বিতীয় দফায় দেশব্যাপী একযোগে ধর্মঘটের ফলে মিলগুলোতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।

শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ এর সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকের বীমার বকেয়া টাকা প্রদান, টার্মিনেশন ও বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ীকরণ, মৌসুমের সময় পাট কিনতে অর্থ বরাদ্দ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করা।

জানা যায়, বৈঠকে বিজেএমসিতে বিদ্যমান শ্রমিক অসন্তোষের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করা হয়। শ্রমিকদের মূল দাবি বকেয়া মজুরি পরিশোধ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের মাধ্যমে সমস্যা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

এইচএস/আরএস/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :