কৃষিখাতে ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ করবে চীন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ১৬ মে ২০১৯

বাংলাদেশের কৃষিখাতে ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ করবে চীনের এক কোম্পানি। তারা এদেশে ৩টি কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করবে। চীন বাংলাদেশ থেকে কৃষিজাত পণ্য আমদানি করবে।

আজ বৃহস্পতিবার কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্র দূত ঝাং জুয়া এসব কথা বলেন। দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এই বৈঠকে।

চীনের রাষ্ট্রদূতকে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে অন্যতম সহযোগী চীন। আন্তর্জাতিক, কৃষি, বিনিয়োগ এবং শিল্প-বাণিজ্যে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের আরও উন্নয়ন চায় সরকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চীনের সঙ্গে যে সম্পর্কের সূচনা করেছিলেন, তা আরও টেকসই করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ। দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগসহ অনেক মেগা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ রয়েছে। দুই দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে একটা মিল রয়েছে। কৃষিশিল্পের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা সবসময় কাম্য।’

সরকারের দূরদর্শিতা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেন চীনের রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক দারিদ্র্য বিমোচনেও বাংলাদেশের অবদান অনস্বীকার্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের সুযোগ কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। দেশটিতে শিল্পায়ন ও নগরায়নের প্রক্রিয়াও ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে যে সাফল্য অর্জন করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।’

বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চায় বেইজিং। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিরাপদে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরত যাবে-এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত ঝাং জুয়া। তিনি বলেন, রোহিংঙ্গা সমস্যা সমাধানে বেইজিং বাংলাদেশের সঙ্গে আছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও নাশকতা দমনে চীন-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের প্রশংসার জন্য রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অধিক ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ। কৃষির আধুনিকায়নের মাধ্যমে জনগণের মানসম্মত খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করে ২০৪১ সালের আগেই উন্নত বাংলাদেশে পরিণত হতে সবখাতে কাজ করছে সরকার। কৃষি প্রক্রিয়াজাত ও মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে কৃষিকে লাভজনক করতেও কাজ করছে সরকার।’

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘চলমান ধানের দাম নিয়ে সরকার বেশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। কৃষক তার কৃষিপণ্যের ন্যায মূল্য পাচ্ছে না। কী কী পদক্ষেপ নিলে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো যায়, এ জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই মুহূর্তে চাল রফতানির কথা ভাবছে সরকার।’

এমইউ/এসআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :