জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাবের নির্মম শিকার বাংলাদেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১২ পিএম, ২২ মে ২০১৯

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাবের নির্মম শিকার। সরকার এ সমস্যা মোকাবেলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বুধবার (২২ মে) দুপুরে ফ্রান্স ন্যাশনাল পার্লামেন্টের সদস্য ও ফ্রান্স বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল ওবোনো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় কালে তিনি এ কথা বলেন। কনফারেন্সে তারা বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় প্রস্তুতি এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস সম্প্রচার, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, উপকূলীয় এলাকার মানুষকে যথাসময়ে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ, উপকূলীয় বাঁধ তৈরি, লবণাক্ত ও খরাসহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, বাঁধ ও বাঁধ সংলগ্ন চর এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী সৃষ্টি, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন ইত্যাদি পদক্ষেপ বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নেই করছে। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন এবং এ বিষয়ে বিশেষ ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘ চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ পুরস্কারে ভূষিত করে।

তিনি বলেন, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও এ-সংক্রান্ত দুটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কাজ করছে। এছাড়া সরকার ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ গ্রহণ করেছে। অপ্রতুল ভূমি, ঘন বসতিপূর্ণ জনসংখ্যা, জেন্ডার ইস্যু, খাদ্য নিরাপত্তা ইত্যাদি সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে কাজ করতে হয়। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বন্যা ও সাইক্লোন সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করছে। সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে দু’দেশের সংসদ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ড্যানিয়েল ওবোনো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শঙ্কা বাংলাদেশের। তাই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রসংশা করেন এবং বাংলাদেশের অভিযোজন অভিজ্ঞতা থেকে ঝুঁকির মুখে থাকা রাষ্ট্রসমূহ শিক্ষা নিতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

এইচএস/এএইচ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :