আইওএম নির্বাচন : বাংলাদেশের জয়, পরাজয় মানছে না সুদান

কূটনৈতিক প্রতিবেদক কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪৩ পিএম, ২৪ জুন ২০১৯

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপমহাপরিচালক পদের ভোটাভুটির শেষ পর্ব পর্যন্ত জয়ী হয়েও নুতন এক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আইওএম হেড কোয়ার্টারে সংস্থাটির উপমহাপরিচালক পদের নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চম রাউন্ড পর্যন্ত ভোটাভুটি হয়। এর চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের কাছে পরাজিত হয় সুদান। কিন্ত পরাজয় মেনে নিতে রাজি হয়নি দেশটি। ফলে তৈরি হওয়া জটিলতায় নির্বাচন আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচনের রীতি না মেনে নেয়ার এই জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত তা নির্বাচনের কার্যক্রম মুলতুবি রাখা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে সোমবার কূটনীতিকদের ব্রিফ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সকালেই রাজধানীর হোটেলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে নিশ্চিত করেছে কূটনৈতিক সূত্র।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ‘ঢাকায় যেসব দেশের দেশের দূতাবাস আছে, আমরা উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের জানিয়েছি আইওএম-এর নিয়ম মানার বিষয়ে তাদের সমর্থন চেয়েছি।

সূত্র জানায়, নির্বাচনের শেষ পর্বে শহীদুল হকের পাওয়া ৭৫ ভোটের বিপরীতে সুদানের প্রার্থী ৭৩ ভোট পান। আইওএম-এর ভোটের পদ্ধতি অনুযায়ী দু’জন প্রার্থীর মধ্যে হেরে যাওয়া প্রার্থী সরে দাঁড়ান। পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রার্থীকে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন আদায়ে হ্যাঁ-না ভোটের সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু এ পদ্ধতি মানতে রাজি হয়নি সুদান।

সুদান ছাড়াও ফিলিপাইন, আফগানিস্তান ও জর্ডান আইওএমের এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। ফলাফলে পিছিয়ে থেকে তারা একের পর এক সরে যায়।

কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, ভোটের প্রথম পর্বে শহীদুল দ্বিতীয় হন। শুরুর দিকে ফিলিপাইন ও জর্দান নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়। চতুর্থ রাউন্ডেও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকেন শহীদুল হক। তবে চতুর্থ রাউন্ডের পরে আফগানিস্তান তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে। এরপরেই প্রথম স্থানে চলে আসেন বাংলাদেশের প্রার্থী।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক আইওএমে ১১ বছর বিভিন্ন উচ্চ পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১২ সালে তিনি এ সংস্থা থেকে অব্যাহতি নেন।২০১৩ সালের জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি।

জেপি/এমআরএম

আপনার মতামত লিখুন :