গুমের খবর প্রধানমন্ত্রী পান কি না সন্দেহে জাফরুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২৭ পিএম, ৩০ আগস্ট ২০১৯

গুমে গোয়েন্দা বাহিনী, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং) ও ইসরায়েলের ‘মোসাদ’ জড়িত দাবি করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, এখানে (বাংলাদেশে) একটা গুমও আল্লাহ করেননি।

তিনি বলেন, আল্লাহ কাউকে গুম করলে তার জানাজা পড়ার সুযোগ হয়। কিন্তু আপনার গোয়েন্দা বাহিনী, ভারতীয় ‘র’ এবং ইসরায়েলের ‘মোসাদ’ যখন সম্মিলিতভাবে কাউকে গুম করে, তার সংবাদ আপনিও (প্রধানমন্ত্রী) পুরোপুরি জানেন কিনা, তা আমার জানা নেই।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে গুম হওয়া পরিবারদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আপনি বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছেন। সবচেয়ে ভালো উপহার হবে জাতির প্রতি, যারা গুম হয়েছে তাদের সবাইকে জীবিত অথবা মৃত ফেরত দেয়া। তাহলে পরিবারগুলো আপনার জন্য দোয়া করবে।

তিনি বলেন, আমার সংশয় রয়েছে, আপনার গোয়েন্দা বাহিনী, ভারতীয় ‘র’ এবং ইসরায়েলি ‘মোসাদ’ যখন সম্মিলিতভাবে কাউকে যখন গুম করে, তার সংবাদ আপনিও পুরোপুরি জানেন কিনা।

সরকারের উদ্দেশ্য করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এখানে উপস্থিত এতগুলো মানুষ দাবি করছে তাদের কেউ না কেউ গুম হয়েছে। এই দাবির কথা চিন্তা করে একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে দেখান। যারা এখানে ছবি হাতে বসে আছে, তারা কি মিথ্যা কথা বলছে? অন্তত একটা তদন্ত করেন! তদন্ত করে সত্য প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, আমরা জীবনের নিরাপত্তা বিধান করতে পারে এমন একটা রাষ্ট্র চেয়েছিলাম। কিন্তু খুবই দুর্ভাগ্যজনক, আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়ার পরে বেঁচে থাকার যে অধিকার রাষ্ট্র সেটাও কেড়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্র যখন সন্ত্রাসী হয়ে যায়, তখন মানুষের জন্য এ রাষ্ট্রের কোনো প্রয়োজন থাকে না। জাতিসংঘের গুমের ব্যাপারে যে সনদ আছে, সেই সনদের বাংলাদেশ সরকারকে অনতিবিলম্বে স্বাক্ষর করতে হবে। গুমের ক্ষেত্রে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থাসহ যেসব সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

সরকারের প্রতি তিনটি প্রশ্ন রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, যদি আপনারা গুম না করে থাকেন, তাহলে গুম হওয়ার সময় অনেক ঘটনায় আপনাদের গাড়ি এবং আপনাদের বাহিনীর লোককে দেখা যায় কেন? যদি আপনারা গুম না করে থাকেন, তাহলে গুমের পরিবার যখন মামলা করতে যায় তখন মামলা কেন গ্রহণ করেন না? আপনারা যদি গুম না করে থাকেন, তাহলে দশ বছর ক্ষমতায় আছেন, কারা গুম করছে সেটা কেন বের করতে পারছেন না?

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়, গুম তো আমরা করিনি। পারিবারিক বিরোধ, বন্ধুর সাথে ঝগড়া করে আত্মগোপন করেছে, এ ধরনের বক্তব্য নির্মম রসিকতা ছাড়া কিছু নয়।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক আকমল হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা।

জেইউ/এমএসএইচ/পিআর