অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন এক অধ্যায়ের সমাপ্তি

মুরাদ হুসাইন
মুরাদ হুসাইন মুরাদ হুসাইন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ২০ জুন ২০২০

কামাল লোহানী ছিলেন দেশের একটি নক্ষত্র। এ দেশের সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘কামাল লোহানী’ শুধু একটি নাম নয়, ইতিহাসেরও একটি অংশ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনসহ সর্বক্ষেত্রে ছিল তার প্রগাঢ় উপস্থিতি। শনিবার তার মৃত্যুর পর চিরবিদ্রোহী আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল— এমনটি মনে করেন সমাজের বিশিষ্টজনরা।

কামাল লোহানী সাংবাদিকতা দিয়ে পেশাজীবন শুরু করলেও নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন সবসময়। এ দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কামাল লোহানী হিসেবে পরিচিত হলেও তার পুরো নাম আবু নঈম মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান লোহানী। ১৯৩৪ সালের ২৬ জুন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার খান সনতলা গ্রামে তার জন্ম। বাবা আবু ইউসুফ মোহাম্মদ মুসা খান লোহানী, মা রোকেয়া খান লোহানী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, কামাল লোহানী ছিলেন একজন খ্যাতিমান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও কলামিস্ট। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তিনি গভীরভাবে লালন করতেন। তার চলে যাওয়া আমাদের এই নতুন প্রজন্মের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমি সবার কাছে আশা করব, তার রেখে যাওয়া যে কার্যক্রম সেটি যেন আমরা পরিস্ফুটিত করতে পারি, লোহানীর আদর্শ সুন্দরভাবে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারি, সেই চেষ্টা করতে সবার কাছে আহ্বান জানাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, কামাল লোহানীর সবচেয়ে বড় গুণ ছিল, তিনি কখনও-ই সরকারের বা বিরোধী দলের কারও-ই আনুকূল্য কামনা করেননি। যখন-ই যেখানে অসঙ্গতি দেখেছেন নির্বিঘ্নে তিনি সেটার সমালোচনা করেছেন। সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সবসময়ই খোঁজখবর নিতেন। তার চলে যাওয়া আমাদের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি আমাদের জাতীয় চেতনায় যে অবদান রেখে গেছেন সেটি আসলে কখনও পূরণ হওয়ার মতো নয়।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, কামাল লোহানীর চলে যাওয়া প্রগতিশীল, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক অপূরণীয় ক্ষতি। সেই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি অঙ্গনে তার অবাধ বিচরণ ছিল। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার যে অবদান, সেগুলো ধরে রাখার মধ্য দিয়েই আমরা মূলত তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে পারব। আমরা তার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজকে সম্মানের সাথে বরণ করে নেব এবং সেগুলো সমাপ্তের অভিপ্রায়ই হবে আমাদের আগামীর পথ চলা।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক, কণ্ঠযোদ্ধা, ভাষাসৈনিক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এক শোকবার্তায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কামাল লোহানী ছিলেন একজন প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক মানুষ ও প্রথিতযশা সাংবাদিক। তার মৃত্যু বাংলাদেশ ও বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। শিক্ষামন্ত্রী কামাল লোহানীর বিদেহি আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

কামাল লোহানীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনও। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন মরহুমের বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এমএইচএম/এমএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।