পাটকল শ্রমিকরা কে কত পাবেন জানা যাবে ৩ দিনের মধ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১৬ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২০

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের আওতায় কে কত টাকা পাবেন তা আগামী তিনদিনের মধ্যে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী লেনের বাসভবনে শ্রমিকদের শতভাগ পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, বস্ত্র ও পাট সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব কে এম আব্দুস সালাম এবং পাটকল শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এক বছর আগে (রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের বিষয়টি) ঠিক হয়েছে। আমরা যেহেতু লসের ভার বইতে পারছিলাম না, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হবে, তাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল এগুলোকে (সরকারি পাটকল) কীভাবে আরও উন্নত মানের করা যায় (সে বিষয়ে)।’

তিনি বলেন, পুরনো টেকনোলজি দিয়ে আমাদের এই কারখানাগুলো টিকতে পারছে না। মাসের পর মাস লস করছে। এখানে আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা দায়ী না-এটা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন।

‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই শ্রমিক ভাইয়েরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আন্দোলন করেছেন। এক লাখ শ্রমিক বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আন্দোলন করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন। এ কথা বলতে গিয়ে তিনি কিন্তু চোখের পানি ফেলেছেন। বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিল এরা, এদের তো পুনর্বাসন করতে হবে, এদেরকে আরও ট্রেনিং দেয়া যায় কি-না?। অর্থসচিব কে বলেছেন এদেরকে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করো, তাদেরকে আমার দরকার, তাদেরকে হারাতে চাই না। প্রধানমন্ত্রীর পাট শ্রমিকদের প্রতি কেন যেন এত মায়া?’

প্রধানমন্ত্রী নিজে পাটকল শ্রমিকদের দায়িত্ব নিয়েছেন জানিয়ে গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ‘আমি শ্রমিক ভাইদের বলব, যেখানে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন সেখানে ভাববার কোনো বিষয় নেই। আপনারা খুবই নিরাপদে আছেন, খুব শান্তিতে থাকবেন-এই আমার ধারণা।’

শ্রমিকরা অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকাটাই স্বাভাবিক। অনেকে বলেছেন কী পাব না পাব জানব কীভাবে? চলতি মাসের বেতন এ সপ্তাহের শেষের দিকে আপনাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। আরও দুই মাস নোটিশ পিরিয়ড আছে। পরের মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এরপর বাজেট ক্লিয়ারেন্স হবে। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনদিনের মধ্যে তালিকা তৈরি করতে। এরমধ্যে আপনারা (পাটকল শ্রমিকরা) জেনে যাবেন কে কত পাচ্ছেন না পাচ্ছেন। সেটা আপনারা অবগত হবেন।’

‘সরকারি টাকা, এখানে মাঝখানে কেউ নেই, মাঝখানে কোনো দালাল নেই। যেটা সলিড যেটা আছে...সমস্ত সুবিধা-গ্রাচ্যুইটি, অবসর সুবিধা, গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সেটাও তারা পাবেন। আমরা ২০১৫ সালের মজুরি অনুযায়ী করেছি। ২০১৫ সালের মজুরি না হলে অর্ধেক টাকায় আমরা পারতাম। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন করে বলেছেন, আমাদের শ্রমিক লোকেদের ঠকাতে পারবা?’

মন্ত্রী বলেন, পাট শ্রমিকদের আমরা কোনোভাবে ঠকাবো না-এই নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন।

শ্রমিকদের অর্ধেক টাকা নগদে আর অর্ধেক টাকায় সঞ্চয়পত্র কিনে দেয়া হবে জানিয়ে পাটমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দেখ, আমাদের দেশে বাপেরা টাকা পেলে ছেলেরা গিয়ে বাপকে চাপ দেয় টাকা দাও। বাপের কাছ থেকে জোর করে টাকা নিয়ে চলে যায়। তখন ভাত না খেয়ে মরে। জামাই বলে টাকা দাও নইলে তোমার মেয়েকে নিয়ে যাও। এ ধরনের অনেক ইতিহাস আছে। এজন্য তিনি বলেছেন, অর্ধেক টাকা দিয়ে সঞ্চয় পত্র কিনে দেব যাতে কেউ টাকা না নিয়ে যেতে পারে। এটার লাভ দিয়ে ভাঙিয়ে ভাঙিয়ে খাবে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ জুলাই থেকে বন্ধ ঘোষণা করা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের প্রতিজন শ্রমিক গড়ে ১৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পাবেন। সরকার তাদের পাওনার অর্ধেক নগদে পরিশোধ ও বাকি অর্ধেক টাকার সঞ্চয়পত্র দেয়া হবে।

তার এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে একটি সভা হয়।

লোকসান থেকে বাঁচতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অবসরে পাঠানো হচ্ছে বলে গত ২৮ জুন ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী।

আরএমএম/এসআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]