রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের পাওনা যেভাবে পরিশোধ করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৩৬ পিএম, ০২ জুলাই ২০২০

বন্ধ ঘোষণা করা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর প্রতিজন শ্রমিক গড়ে ১৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পাবেন। সরকার তাদের পাওনার অর্ধেক নগদে ও বাকি অর্ধেক টাকার সঞ্চয়পত্র দেবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে একটি সভা হয়।

লোকসান থেকে বাঁচাতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অবসরে পাঠানো হচ্ছে বলে গত ২৮ জুন ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর বিরাজমান পরিস্থিতি সমাধানসহ পাটখাতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো ১ জুলাই থেকে বন্ধ ঘোষণা এবং গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধার আওতায় কর্মরত ২৪ হাজার ৮৮৬ জন শ্রমিকের পাওনা এককালীন পরিশোধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, এর আওতায় শ্রমিকরা চারখাতে আর্থিক সুবিধা পাবেন। শ্রমিকরা ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ এর ধারা-২৬ এর উপধারা-৩ অনুযায়ী নোটিশ মেয়াদের অর্থাৎ ৬০ দিনের মজুরি পাবেন। এছাড়া চাকরিবিধি অনুযায়ী প্রাপ্য গ্রাচুইটি (জাতীয় মজুরি কাঠামো, ২০১৫’ অনুযায়ী), পিএফ তহবিলে জমাকৃত সমুদয় অর্থ ও নির্ধারিত হারে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধা পাবেন শ্রমিকরা।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিজন শ্রমিক গড়ে ১৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা করে এবং সর্বোচ্চ ৫৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পাবেন জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একইসঙ্গে ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অবসরে যাওয়া আট হাজার ৯৫৬ জন শ্রমিকের ও বদলি শ্রমিকদের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করা হবে।

'কেবল তাই নয়, শ্রমিকদের পাওনার অর্ধেক নগদে এবং বাকি অর্ধেক তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আকারে দেয়ার ফলে শ্রমিকরা এক প্রকারের বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ের সুযোগ পাবেন, যা তাকে প্রতি তিন মাস অন্তর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মুনাফা দেবে। এতে শ্রমিকদের জন্য একটি আর্থিক সুরক্ষা তৈরি হবে।'

পাটকল শ্রমিকদের প্রাপ্য নমুনা তুলে ধরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারও পাওনা ১৪ লাখ হলে, তিনি ৭ লাখ টাকা নগদে আর বাকি ৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পাবেন। এক্ষেত্রে তিনি সঞ্চয়পত্রের জন্য তিন মাস অন্তর ১৯ হাজার ৩২০ টাকা মুনাফা পাবেন।

কারও পাওনা ২৪ লাখ টাকা হলে তিনি ১২ লাখ টাকা নগদ পাবেন বাকি ১২ লাখ টাকা পাবেন সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে তিনি তিন মাস অন্তর মুনাফা পাবেন ৩৩ হাজার ১২০ টাকা।

কারও পাওনা ৩৮ লাখ টাকা হলে তিনি ১৯ লাখ টাকা নগদে এবং বাকি ১৯ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পাবেন। এক্ষেত্রে তার তিন মাসে মুনাফা হবে ৫২ হাজার ৪৪০ টাকা।

কারও প্রাপ্য ৫৪ লাখ টাকা হলে তিনি নগদ পাবেন ২৭ লাখ টাকা এবং বাকি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেয়া হবে। এক্ষেত্রে তিন মাস অন্তর তিনি ৭৪ হাজার ৫২০ টাকা মুনাফা পাবেন।

লোকসানে থাকা পাটকলগুলোকে লাভজনক করার উপায় নিয়ে গত ছয় মাস ধরে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে জানিয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেছিলেন, গত ৪০ বছর ধরে আমরা কোনো লাভ করতে পারিনি। সবসময় লোকসান হচ্ছে। সরকার চিন্তা করছে কীভাবে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্ত টাকা বুঝিয়ে দিয়ে এই কারখানাগুলোকে আবার চালু করে আমাদের পাটখাতকে এগিয়ে নিতে পারি।

বস্ত্র ও পাট সচিব লোকমান হোসেন মিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘পাটকলগুলোতে ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে শ্রমিকদের চাকরির অবসান করতে। পাটকল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেয়ার পর পিপিপির মাধ্যমে পাটকলগুলোকে আধুনিকায়ন করে উৎপাদনমুখী করা হবে। তখন এসব শ্রমিক সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ পাবেন।’

আরএমএম/বিএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]