দাফন-দাহের খরচ বৃদ্ধিতে নাখোশ নগরবাসী

মুসা আহমেদ
মুসা আহমেদ মুসা আহমেদ
প্রকাশিত: ০৩:০২ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২১

#লাশ দাফনে ফি বেড়েছে পাঁচগুণ, সংরক্ষণে দ্বিগুণ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তিনটি কবরস্থানে লাশ দাফন ও দুটি শ্মশানে দাহ একটা সময় খরচ ছিল নামমাত্র। দুই বছরেরও বেশি সময় দাফন-দাহ সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেয়া হয়। তবে এখন আগের সেই নামমাত্র খরচের চেয়ে পাঁচগুণ ফি বেড়েছে লাশ দাফনে। দ্বিগুণ হয়েছে কবর সংরক্ষণ ফিও। শ্মশানগুলোতেও একইভাবে ফি নেয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা।

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থান, জুরাইন কবরস্থান, মুরাদপুর কবরস্থান, পোস্তগোলা শ্মশান ও লালবাগের শ্মশান ডিএসসিসির মালিকানাধীন। করপোরেশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই তিনটি কবরস্থানে লাশ দাফনে (বাঁশ, চাটাই, কবর খনন) এবং শ্মশানে লাশ দাহে বছরে কয়েক কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হতো। এখন করপোরেশনের রাজস্ব বাড়াতে নতুন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। কেউ কবর সংরক্ষণ করতে চাইলেও মোটা অংকের টাকা গুনতে হবে।

নাগরিকদের অভিযোগ, প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করে ডিএসসিসি। কিন্তু ওই বাজেটে কবরস্থান এবং শ্মশানে লাশ দাফন ও দাহে ভর্তুকি অন্তর্ভুক্ত হয় না।

ডিএসসিসির সমাজকল্যাণ বিভাগ সূত্র জানায়, আগে কিছুটা খরচ নেয়া হলেও ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আজিমপুর, জুরাইন, মুরাদপুর কবরস্থানে লাশ দাফন এবং পোস্তগোলা ও লালবাগ শ্মশানে লাশ দাহ ফ্রি করে দেয়া হয়। ২০২০ সালের ৭ জুলাই বোর্ড সভায় ওই সুযোগ বন্ধ করে লাশ দাফন এবং কবর সংরক্ষণ ফি বাড়াতে মতামত দেয়া হয়। ওই বছরের জুনে খিলগাঁও কবরস্থানও ডিএসসিসির অধীনে আসে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই চারটি কবরস্থান এবং দুটি শ্মশানে দিনে গড়ে ৫০টি লাশ দাফন এবং দাহ করা হয়। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৭ জুলাই পর্যন্ত কবরস্থানে লাশ দাফনে ফ্রিতে বাঁশ, চাটাই, কবর খনন করার ব্যবস্থা ছিল। প্রবেশ ফি (২০০ টাকা) মওকুফ করা হয়েছিল। এখন কবরস্থানে প্রবেশ ফি নির্ধারিত হয়েছে এক হাজার টাকা। এছাড়া বড় কবরে বাঁশ, চাটাই ও কবর খননে ফি এক হাজার ৯২ টাকা, মাঝারি কবরে ৭৭৭ ও ছোট কবরে ৪৬০ টাকা ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে একটি লাশ দাফনে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা ফি দিতে হয়। শ্মশানগুলোতেও একইভাবে ফি নেয়া হচ্ছে। অথচ ২০১৮ সালের আগেও একটি লাশ দাফন বা দাহে গড়ে ৫০০ টাকা খরচ হতো।

আজিমপুর কবরস্থানে মোহরারের দায়িত্ব পালন করছেন হাফিজুর রহমান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এ কবরস্থানে দিনে গড়ে ৩০টি লাশ দাফন করা হয়। প্রতিটি লাশের প্রবেশ ফি এক হাজার টাকা করে রাখা হয়। আগে এই ফি ছিল ২০০ টাকা। এছাড়া লাশের কবর খনন, বাঁশ, চাটাই সরবরাহের জন্য ডিএসসিসির নির্ধারিত ঠিকাদার রয়েছে।

jagonews24

লালবাগ রোডের বাসিন্দা মোকাব্বের হোসেন বলেন, পুরান ঢাকায় অনেক দরিদ্র পরিবার রয়েছে। তাদের অনেকে লাশ দাফনে ফি দিতে পারে না। বাধ্য হয়ে অন্যের কাছে হাত পাততে হয়। এমন বাস্তবতা না বুঝেই ফ্রিতে লাশ দাফন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সংরক্ষণ ফিও বাড়ানো হয়েছে। অবিলম্বে ওই সিদ্ধান্ত থেকে করপোরেশনকে সরে আসতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির হিসাব বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই চারটি কবরস্থান ও দুটি শ্মশানে অর্ধশত কোটি টাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছিল। এখন লাশ দাফন ও দাহে বছরে গড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখলেই কারও কোনো প্রশ্ন থাকতো না। কবরস্থান ছাড়াও ডিএসসিসির রাজস্ব আয়ের অনেক পথ রয়েছে।

জানতে চাইলে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের জাগো নিউজকে বলেন, কবরস্থানে লাশ দাফন নিয়ে সিটি করপোরেশন ব্যবসা করছে না। একটি লাশ দাফনে যে পরিমাণ খরচ হয়, নাগরিকদের কাছ থেকে সেই পরিমাণ টাকাই নেয়া হচ্ছে।

কবর সংরক্ষণ ফি বেড়েছে দ্বিগুণ
কবরস্থানে কবর সংরক্ষণ ফিও প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়েছে ডিএসসিসি। আগে ১০ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণ ফি ছিল তিন লাখ টাকা। এখন তা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করা হয়েছে। ১৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণ ফি ছিল ছয় লাখ, এখন ১০ লাখ টাকা। ২০ বছরের জন্য ফি ছিল নয় লাখ, এখন ১৫ লাখ টাকা। ২৫ বছরের জন্য ফি ছিল ১২ লাখ, এখন ২০ লাখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমএমএ/এসএইচএস/এইচএ/জেআইএম

কবরস্থানে লাশ দাফন নিয়ে সিটি করপোরেশন ব্যবসা করছে না। একটি লাশ দাফনে যে পরিমাণ খরচ হয়, নাগরিকদের কাছ থেকে সেই পরিমাণ টাকাই নেয়া হচ্ছে

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]