লেখক মুশতাককে হত্যা করা হয়েছে : জাফরুল্লাহ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪১ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

লেখক মুশতাক আহমেদকে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে লেখক মুশতাক আহমেদের গায়েবানা জানাজা পূর্ববর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘লেখক মুশতাককে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের খোঁজ কি পাওয়া যায়নি? পাওয়া গেছে। তার হত্যাকারী হলো সরকার ও তার আইন শৃঙ্খলা-বাহিনী। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হইলো সরকারি বাহিনীর একটি অধ্যাদেশ। এই সিকিউরিটি আইনের সাথে যারা জড়িত তারা প্রত্যেকে এই হত্যার সাথে জড়িত।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যা যেমন মর্মান্তিক, আমি মনে করি মুশতাকের হত্যাও তেমনি একই ধরনের মর্মান্তিক। শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করলেই হবে না, এই হত্যার জন্য যারা দায়ী এমনকি যদি আপনারও দায় থাকে, তাহলে আপনাকেও দায় নিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে জনগণের কাছে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আজকে বিচারপতিদের দায়িত্ব পরিষ্কারভাবে বলা যে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন নাগরিকের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি বেঁচে থাকতে চান, তাহলে এই আইনকে কবর দিয়ে দেন। আমি যদি আপনার বিরুদ্ধে মানহানিকর কিছু বলি তাহলে আপনাকেই মানহানির মামলা করতে হবে, কোনো পুলিশ কনস্টেবলকে দিয়ে নয়। ডিজিটাল অ্যাক্ট দিয়ে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না।’

বিচারপতিদের উদ্দেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই ট্রাস্টি আরও বলেন, ‘আপনাদেরও দ্বায়িত্ব আছে, আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহে আপনারা উন্মোচন করবেন, মুশতাক হত্যার জন্য দায়ী কারা।’

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল, তানজিম উদ্দিন খান, রুশাদ ফরিদী, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারাসহ সাধারণ নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদ বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে মারা গেছেন। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুশতাক আহমেদ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে কারাগারের ভেতর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

এমআরআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]