মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২২ এএম, ২৮ নভেম্বর ২০২১

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের পঞ্চদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার (২৮ নভেম্বর)।

তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পৃথক বাণী দিয়েছেন।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহা. হাবিবুল ইসলাম সুমন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টায় আজিমপুর কবরস্থানে মরহুমের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনসহ সব স্থরের মানুষ এ শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।

মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুবার্ষিকীতে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা। তার সততা, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণে রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পদে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সফল একজন মানুষ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল থেকে আওয়ামী লীগের একজন সংগ্রামী নেতা হিসেবে আমৃত্যু জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি ছিলেন দুঃখী মানুষের আপনজন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হলে তিনি মানবঢাল রচনা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে রক্ষার প্রাণান্তর প্রচেষ্টা চালান। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। নিজের জীবনবাজি রেখে প্রিয় নেত্রীকে বাঁচাতে আত্মত্যাগের এ উদাহরণ সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর জন্য সবসময় অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, মোহাম্মদ হানিফ বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষণার সময় থেকে জাতির পিতার একান্ত সহকারী হিসেবে অত্যন্ত একাগ্রতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশের একজন নিবেদিতপ্রাণ, ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে মোহাম্মদ হানিফ মানুষের হৃদয়ের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় বেঁচে থাকবেন। মোহাম্মদ হানিফের সংগ্রামী জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করবে করবে।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তার বাণীতে বলেন, মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান, বিচক্ষণ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব। তিনি মানবকল্যাণমূলক চিন্তাধারা, পরিকল্পনা ও উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন। মেয়র হিসেবে ঢাকাবাসীর জন্য নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে তার প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার। ঢাকার উন্নয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ঢাকাবাসী আজও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নলালিত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রয়াত এই নেতার নানামুখী প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ঢাকা মহানগর আ’লীগের কর্মসূচি
মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার পৃথক কর্মসূচি নিয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেয়র মোহাম্মদ হানিফ আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ছিলেন। তিনি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। তার আত্মার মাগফিরাতে রোববার কবর জিয়ারত এবং আজিমপুরে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদে দোয়া মোনাজাত কর্মসূচি পালন করা হবে। একই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান।

১৯৪৪ সালের ১ এপ্রিল পুরান ঢাকার আবদুল আজিজ ও মুন্নি বেগম দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ হানিফ। ১৯৭৬ সালে তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হোন। ১৯৯৪ সালে ৩০ জানুয়ারি ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হানিফ।

১৯৯৬-এর মার্চে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে তারই নেতৃত্বে ‘জনতার মঞ্চ’ গড়ে তোলেন। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর ৬২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি এক ছেলে ও দুই কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। ছেলে মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন সাঈদ খোকন।

এমএমএ/এএএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]