টিসিবির পণ্য কিনতে মরিয়া মানুষ, দড়ি ধরে অপেক্ষা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:১৭ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২
টিসিবির পণ্য কিনতে দড়ি ধরে লাইনে মানুষ

ডাল, চিনি, তেলসহ নিত্যপণ্যের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা মানুষ। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাপন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের। সংসারের চাকা সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ। ফলে বাজারমূল্যের চেয়ে কিছুটা কম দামে পাওয়ায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্যবাহী ট্রাকের পেছনে ছুটছে মানুষ।

রাজধানীর যেসব স্পটে টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাক নিয়মিত পণ্য বিক্রি করে, সেখানে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন ক্রেতারা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনতে হচ্ছে তাদের। তবে চাহিদার তুলনায় ট্রাকপ্রতি দৈনিক বরাদ্দ কম হওয়ায় অনেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে দেখা গেছে, যেখানেই টিসিবির ট্রাক, সেখানেই দীর্ঘ লাইন। বেশ কয়েকটি স্পটে পণ্যবাহী ট্রাক না পৌঁছালেও মানুষ দাঁড়িয়ে ও বসে অপেক্ষা করছে।

দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুপাশে দড়ি টাঙিয়ে লাইন করে দাঁড়িয়ে আছে মানুষ। দড়ি ধরে লাইনে দাঁড়িয়েছেন বৃদ্ধ, যুবক, তরুণরা। হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে যেন, পুলিশ কোথাও অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে! তবে বাস্তবতা হলো- টিসিবির দীর্ঘ লাইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে যেন কেউ ঢুকে না পড়ে, সেজন্য ক্রেতারা নিজেরাই দড়ি কিনে লাইন করার ব্যবস্থা করেছেন।

jagonews24

পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন বৃদ্ধ আফসার আলী। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পা ব্যথা করছে। কিন্তু নড়াচড়া করার উপায় নেই। এখান থেকে সরলেই জায়গা হারিয়ে ফেলবো। আবার পেছনে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।’

রিকশাচালক সাজু মিয়া বলেন, ‘টিসিবির পণ্য কিনতে এসে কেউ লাইন সোজা করে দাঁড়ান না। যে যার মতো করে লাইন করে দাঁড়িয়ে পড়েন। আবার অনেকে লাইন ভেঙে অন্যকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। এ কারণে প্রায়ই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সেজন্য দড়ি দিয়ে আমরাই লাইন তৈরি করেছি।’

লাইনে দাঁড়ানো হনুফা বেগম বলেন, ‘এখানে পণ্যের দাম কম। তবে ডাল, তেল, চিনির সঙ্গে পচা পেঁয়াজ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্যাকেজ সিস্টেমটা খারাপ। যার যেটা পছন্দ, তাকে সেটা ইচ্ছেমতো কিনতে দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে আমরা সরকারের সুনজর আশা করছি।’

jagonews24

সরকার নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কম দামে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করছে। টিসিবির প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬৫ টাকা, চিনি ৫৫, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১১০ এবং পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টিসিবির পণ্য বিক্রি চলবে। একজন ক্রেতা সর্বনিম্ন দুই থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি পেঁয়াজ, দুই কেজি মসুর ডাল, দুই কেজি চিনি ও দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন।

এমইউ/এএএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।