গুলশানে দারিদ্র্য কম, বেশি চর রাজিবপুরে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৮ পিএম, ২২ মে ২০২২
বিবিএস’র সেমিনারে অতিথিরা

দেশের সবচেয়ে কম দরিদ্র মানুষের বসবাস ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানে, মাত্র ০ দশমিক ৪ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষের বসবাস কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলায়, ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৬ সালের দারিদ্র্যের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বের করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এসব তথ্য জানিয়েছে।

রোববার (২২ মে) নগরীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) কার্নিভাল হলে ‘প্রভার্টি অ্যান্ড আন্ডার নিউট্রিশন ম্যাপস বেজড অন স্মল এরিয়া এস্টিমেশন টেকনিক’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিবিএস ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে।

সেমিনারে দেশের দারিদ্র্য মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। এতে স্থানীয় সরকার পরিচালনার জন্য সারাদেশকে ৫৭৭টি উপজেলায় (মেট্রোপলিটন থানাসহ) বিভক্ত করা হয়েছে। যাতে এসব ডাটা ব্যবহার করে দারিদ্র্য নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।

বিবিএস’র মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে সংস্থাটির প্রভার্টি অ্যান্ড আন্ডার নিউট্রিশন ম্যাপিংসের ফোকাল পয়েন্ট মো. আলমগীর হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এসময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, এনডিসি, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেনি পিয়ার্সি উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে জানানো হয়, বিভাগের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে দারিদ্র্যের হার গ্রুপে অবস্থানকারী উপজেলার সংখ্যায় বৈষম্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায় চট্টগ্রাম বিভাগে। অতি নিম্ন দারিদ্র্যের হার গ্রুপে বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের কোনো উপজেলা নেই। রংপুর বিভাগে অতি নিম্ন দারিদ্র্যের হার গ্রুপে অবস্থানকারী উপজেলা শুধু একটি। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে অতি উচ্চ দারিদ্র্যের হার গ্রুপে অবস্থানকারী উপজেলা মাত্র একটি।

ঢাকা বিভাগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ৭৭টি উপজেলা-মেট্রো থানা রয়েছে অতি নিম্ন দারিদ্র্যের হার গ্রুপে। একই সঙ্গে এ বিভাগে ১২টি উপজেলা রয়েছে অতি উচ্চ দারিদ্র্যের হার গ্রুপে।

বরিশাল বিভাগে দারিদ্রের হার ২৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এই বিভাগের ভোলার দৌলতখান উপজেলায় দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে কম, মাত্র ১২ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় দারিদ্র্যের হার বেশি ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বিভাগে গড় দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এই বিভাগে সবচেয়ে কম দারিদ্র্যের হার চট্টগ্রাম সদরে, মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যের হার বান্দরবানের থানচি উপজেলায়, ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

jagonews24

ঢাকা বিভাগে গড় দারিদ্র্যের হার ১৬ শতাংশ। সবচেয়ে কম দারিদ্র্যের হার গুলশানে, মাত্র ০ দশমিক ৪ শতাংশ। মিঠামইন উপজেলায় সবচেয়ে বেশি, ৬১ দশমিক ২ শতাংশ।

খুলনা বিভাগে গড় দারিদ্র্যের হার ২৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ, এই বিভাগের চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা দারিদ্র্যের হার সবেচেয়ে কম, ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। সবেচেয়ে বেশি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায়, ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ।

এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে গড় দারিদ্র্যের হার ৩২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ময়মনসিংহের ভালুকায় দারিদ্র্যের হার সবেচেয়ে কম, ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এই বিভাগে সবেচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষের বসবাস জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়, ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ।

রাজশাহী বিভাগে গড় দারিদ্র্যের হার ২৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এই বিভাগে কম দারিদ্র্যের হার রাজশাহীর বোয়ালিয়া উপজেলায়, মাত্র ৯ শতাংশ। সবেচেয়ে বেশি নওগাঁর পোরশায়, ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

রংপুর বিভাগে গড় দারিদ্র্যের হার ৪৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। এই ব্ভিাগে সবচেয়ে বেশি দরিদ্রপ্রবণ এলাকা কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর, ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ। সবচেয়ে কম দারিদ্র্যের হার পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায়, ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

সিলেটে গড় দারিদ্রের হার ১৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। এই বিভাগে কম দরিদ্রপ্রবণ উপজেলা সিলেটের বিশ্বনাথ, ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। বেশি দারিদ্র্যের হার সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা, ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ। দেশে গড় দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

সেমিনারে বিবিএস মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা উপজেলা ও মেট্রোপলিটন ভিত্তিক দেশে গড় দারিদ্র্যের হার বের করলাম। এটা দেরিতে করতে হয়েছে নানা কারণে। তবে সামনে আরও দ্রুত সময়ে উপজেলা ভিত্তিক দেশে গড় দারিদ্র্যের হার বের করবো। তবে দেশে গড় দারিদ্র্যের হার বের করায় অনেক সংসদ সদস্য খুশি নন। দেশে গড় দারিদ্র্যের হার বেশি দেখানোর জন্য অনেক সংসদ সদস্য আমার কাছে আসেন, যাতে করে বেশি বেশি সুবিধা ভোগ করা যায়।

এমওএস/ইএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]