চট্টগ্রাম মহানগরের বর্জ্য অপসারণে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১১:৪৮ এএম, ১৪ অক্টোবর ২০২২
নগরের বর্জ্যে প্রাণ হারাচ্ছে কর্ণফুলী, ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম মহানগরে বাসা বাড়ি থেকে ৩৩০ টন মানববর্জ্য অপসারণে প্রকল্প দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। চট্টগ্রাম ওয়াসার ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন ও স্যানিটেশন প্রকল্প ফেইজ-২’-এর অধীনে এটি বাস্তবায়ন করবে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পের আওতায় নগরীর বাসা-বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসার মাধ্যমে ৩শ টন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে ৩০ টন ফিকেল স্ল্যাজ (টয়লেটের বর্জ্য) সংগ্রহ করে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে নিয়ে পরিশোধন করা হবে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে সিটি করপোরেশন এবং সিডিএকেও (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) সম্পৃক্ত করতে চায় বিশ্বব্যাংক।

ওয়াসার এই প্রকল্পের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, নগরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে ওয়াসার অধীনে প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ওয়াসার পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সিডিএকেও সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প প্রস্তাবনা নিয়ে আমরা বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। এরপর আমরা সিডিএ’র সঙ্গেও বসবো। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খুব শিগগির আমাদের ত্রিপক্ষীয় একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডকে ৬টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। বর্তমানে চলছে প্রথম জোনের কাজ।

৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ৫০ কোটি টাকা দিচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং বাকি টাকা দেবে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক। মালয়েশিয়াভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এরিনকো এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। ক্যাশমেন্ট-১-এ ১০ কোটি লিটার ধারণক্ষমতার একটি সলিড ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) এবং ৩০০ টন ধারণক্ষমতার ফিকেল স্ল্যাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এফএসটিপি) নামে দুটি শোধনাগার নির্মাণের কাজ চলছে। শোধনাগার নির্মাণে একটি কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান এবং পাইপলাইন বসানোর কাজ বা নেটওয়ার্কিং কাজ করছে দুটি চীনা প্রতিষ্ঠান।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, নগরের বর্জ্যসমূহ দুটি ধাপে সংগ্রহ করা হবে। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের আওতায় রান্নাঘর, গোসলের পানি এবং টয়লেটের বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে। এক্ষেত্রে গ্রাহকের বাসায় পাইপলাইন বসানো হবে। ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে গৃহস্থালী বর্জ্যসমূহ সরাসরি ক্যাশমেন্ট এরিয়ার পরিশোধনাগারে চলে যাবে। সেখানে এসব পানি পরিশোধিত হয়ে নদী ও সাগরে গিয়ে পড়বে। তবে কারিগরি যাচাই-বাছাইয়ে নগরের প্রায় ৩০ শতাংশ এরিয়া পাইপলাইন স্থাপনের অনুপযোগী। এক্ষেত্রে ফিকেল স্ল্যাজ ম্যানেজমেন্টের আওতায় নগরীর বাসাবাড়ির ৩৩০টন টয়লেটের বর্জ্য ভ্যাকুয়াম ট্রাক ও গাড়িতে করে পরিশোধনাগারে নেওয়ার ব্যাপারে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন ও স্যানিটেশন প্রকল্পের ফেইজ-২’এর অধীনে কারিগরি সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক।

ইকবাল হোসেন/এমএইচআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।