তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে প্রতীকী কফিন নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালয়েন্স (আত্মা) ও প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন।
শনিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় বক্তারা অবিলম্বে আইন সংশোধনের দাবি জানিয়ে বলেন, দেশে বছরে তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মারা যান। আইন সংশোধনে যত দেরি হবে, তামাকজনিত মৃত্যু ততই বাড়বে।
তারা আরও বলেন, তামাকের ব্যবহার হ্রাসে সংশোধনীর মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে খসড়া সংশোধনী প্রস্তুত, ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও অংশীজনের মতামত নেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো সরকারের এ উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে নানাবিধ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে।
‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডবি্লউএইচও) এফসিটিসিতে সইকারী দেশ হিসেবে সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ও পদক্ষেপগুলো তামাক কোম্পানির ব্যবসায়িক ও অন্যান্য স্বার্থ থেকে সুরক্ষা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশেষ করে এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ এ তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারকে তামাক কোম্পানির প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার সুপারিশ করা হয়েছে।’
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৩৫.৩ শতাংশ (৩ কোটি ৭৮ লাখ) তামাক ব্যবহার করে। দেশে তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যু ও অসুস্থতায় বছরে ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়, যা তামাকখাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের চেয়ে অনেক বেশি।
‘তামাক ব্যবহারজনিত এ ক্ষয়ক্ষতি ও ভয়াবহতা উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (এফসিটিসি) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০১৬ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।’
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া সংশোধনীতে যেসব প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- সব পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহণে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান বিলুপ্ত করা, বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য বা প্যাকেট প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা, সব ধরনের খুচরা বা খোলা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসহ এ ধরনের সব পণ্য উৎপাদন, আমদানি, কেনা-বেচা নিষিদ্ধ করা ও তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট বা মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৯০ শতাংশ করা ইত্যাদি।
ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের (সিটিএফকে) সহায়তায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, টিসিআরসি, ডরপ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, নাটাব, ধূমপান মাদক ও দুর্নীতি বিরোধী ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহছানিয়া মিশনসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এএএম/এসএএইচ/এমএস