নদী পুনরুদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০১ এএম, ১৭ নভেম্বর ২০২২

দখল, দূষণ ও যত্রতত্র ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের কারণে রাজধানীর নদীগুলো হারিয়ে গেছে। নদীর গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে নদীকে পুনরুদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) নদীদূষণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ‘যোগাযোগ ব্যবস্থায় নদী’ শিরোনামে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের আয়োজনে নদীকথন অনুষ্ঠানে বক্তারা এ আহ্বান জানান। খিলগাঁওয়ের বালু নদীর তীরবর্তী ইটাখোলায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের প্রধান শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত নদীকথনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাইদ রানা, নোঙর বাংলাদেশের সভাপতি সুমন শামস, সুন্দরবন ও উপকূল রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র ও বারোগ্রাম উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মো. সুরুজ মিয়া। এছাড়াও নদীদূষণ রোধে কাজ করেন এরকম স্থানীয় কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

শরীফ জামিল বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের সব গ্রাম ও শহর নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এমন কোনো জনবসতি নেই, যা নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেনি। আদিকাল থেকেই মূল যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল নৌপথ। নৌপথকে গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে। এজন্য দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নদী উন্নয়ন পরিকল্পনায় ও বাস্তবায়নে নদীপাড়ের জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

ইবনুল সাইদ রানা বলেন, বড় নৌযানগুলো আর এখন দেখা যায় না। কারণ নদীর নাব্যতা কমে গেছে। তাছাড়াও দখল আর দূষণের জন্য নদী তার স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে ও দূষিত পানিতে পরিণত হয়েছে। এখন মানুষ আর নৌপথ ব্যবহার করে না, যদিও নৌপথ অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

সুমন শামস বলেন, দেশের নৌপথগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। নড়াই নদী যা ঢাকার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত, বেগুনবাড়ি খাল নাম দিয়ে নদীটিকে হত্যা করা হয়েছে। এই নদীর পুনরুদ্ধারের দাবি করছি।

নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা নদীর বুকে অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজ ও সড়ক তৈরি করেছি। নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে উন্নয়ন করেছি, যা দেশের নৌপথগুলো ধ্বংস করেছে।

সুরুজ মিয়া বলেন, এই বালু নদী আগামী প্রজন্মের কাছে কাল্পনিক একটি নদী হয়ে যাবে। ঢাকা শহরের বর্জ্য এই নদীতে এসে পড়ছে ও নদীকে দূষিত করে ফেলছে। নদীতে মাছ না থাকার কারণে এই এলাকার জেলে সম্প্রদায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অথচ এক সময় এই নদীর মাছ নদীপথে ঢাকা শহরে সরবরাহ করা হতো।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঢাকাকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ইউএসএআইডি ও কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় দূষণবিরোধী একটি অধিপরামর্শমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম।

এসএম/আরএডি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।