টেকনাফে আরসা নেতা ছালেহ বাহিনীর সঙ্গে র‌্যাবের গোলাগুলি চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৬ পিএম, ০৫ মে ২০২৩
ইনসেটে ছালেহ বাহিনীর প্রধান হাফিজুর রহমান

কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্গম পাহাড়কেন্দ্রিক অপহরণ ও ডাকাতির অন্যতম হোতা ছালেহ বাহিনীর প্রধান হাফিজুর রহমান ওরফে ছলে উদ্দীনকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, ছালেহ বাহিনীর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে র‌্যাবের গুলি বিনিময় চলছে।

শুক্রবার (৫ মে) রাত ৯টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া পাহাড় এলাকায় র‌্যাবের অভিযান শুরু হয়। র‌্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে অপহরণ-ডাকাতির পর মিয়ানমারে ফিরে যান আরসা নেতা ‘ছলে’

তিনি বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্গম পাহাড়কেন্দ্রিক বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও ডাকাতির অন্যতম হোতা ছালেহ বাহিনী। ওই বাহিনীর প্রধান হাফিজুর রহমান ওরফে ছলে উদ্দীনকে গ্রেফতারে অভিযান চালছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছালেহ বাহিনীর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে র‌্যাবের গুলি বিনিময় চলছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, কক্সবাজারে এসব ঘটনায় জড়িত আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) অন্যতম নেতা হাফিজুর রহমান ওরফে ছলে উদ্দিন। এ যুবক বর্তমানে আরসা প্রধান আতাউল্লাহর পরেই দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ছলের গ্রুপে অপহরণ বাণিজ্যে জড়িত ১০ থেকে ১৫ জন। কক্সবাজারের গহীন পাহাড়ে ছলের আস্তানাও রয়েছে।

মিয়ানমার থেকে দেশে আসা রোহিঙ্গাদের তালিকা থাকলেও সরকারিভাবে ছলের কোনো নামের তালিকা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ছলে তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা নয়। প্রতিবারই অপরাধ করে তিনি আবার মিয়ানমারে আত্মগোপন করেন।

আরও পড়ুন: টেকনাফে অপহরণ আতঙ্ক

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আরসা নেতা হাফিজুর রহমান ওরফে ছলে উদ্দিন বর্তমানে আরসার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাবার নাম মো. শফি। মাতা লতি বানু বেগম। মিয়ানমার থেকে এদেশে প্রবেশ করলেও ছলে বা তার পরিবার রোহিঙ্গা তালিকাভুক্ত না। দেশে থাকা রোহিঙ্গাদের তালিকায় কাগজে-কলমে নাম না থাকায় অপহরণ-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নির্বিঘ্নে করে আসছেন ছলে উদ্দিন। ছলের গ্রুপের সদস্যরা নানা অপরাধে জড়িত।

বিশেষত সম্প্রতি কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অপহরণের ঘটনার প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিলেন এই ছলে। আরসা নেতা আতাউল্লাহর নির্দেশে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাহাড়ে অবস্থা করে ছলে বাহিনী। সেখানেই অপহৃতদের জিম্মি করে রাখা হয়। পরে অর্থের বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়। নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে এই ছলে ও তার দলবল মিয়ানমারে আশ্রয় নেয়।

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে থেকে ভারত, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে মানবপাচারে জড়িত এই ছলে বাহিনী। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকলেও ছলের নাম রোহিঙ্গা তালিকায় না থাকায় তাকে আইনের আনা সম্ভব হচ্ছে না।

টিটি/কেএসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।