ঢাকায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতিতে চলছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪৩ এএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থে নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করেছে বলে মনে করেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা সফররত রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখতে আমরা সহযোগিতা বজায় রাখছি। মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে রাশিয়া। একটি পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে বাইরের কয়েকটি দেশ এ ইস্যুটি ব্যবহার করছে। এভাবে তারা দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপও করছে।

আরও পড়ুন: আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই

এ প্রসঙ্গে ল্যাভরভ বলেন, আমি মনে করি, এটি অগ্রহণযোগ্য, এতে বিরূপ ফলই আসে। জাতিসংঘ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে রাশিয়া-বাংলাদেশ পরস্পরকে সহযোগিতা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের চাপ সত্ত্বেও আমাদের বাংলাদেশি বন্ধুরা জাতীয় স্বার্থে তাদের পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হলেও আজ প্রথমবারের মতো ঢাকা সফরে এসেছি। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার। গত অর্ধশত বছর ধরে বন্ধুত্ব ও কূটনৈতিকভাবে আমাদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার মধ্যেও রাশিয়া-বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংলাপ আমরা অব্যাহত রেখেছি।

রাশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সবক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে আজ আমরা একমত হয়েছি। দুদেশের বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্কও জোরদার করেছি। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরেই রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ অংশীদার বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের বাণিজ্যের আকার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। আর ২০২০ সালে এ আকার ছিল ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার।

আরও পড়ুন: ঢাকায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ

তিনি বলেন, আমাদের রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ চুল্লি নির্মাণের প্রকল্প রয়েছে। সময়সূচি অনুসারে এ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। অক্টোবরে পরমাণু জ্বালানির প্রথম ব্যাচ বাংলাদেশে পৌঁছাবে। গ্যাস খাতে সহযোগিতার আরও কিছু সম্ভাবনাময় প্রকল্প রয়েছে। আন্তর্জাতিক কোম্পানির গ্যাসও এ বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশে এরই মধ্যে ২০টি গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের বাস্তবতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আলোচনা করেছে। সম্ভাব্য গম ও সার সরবরাহ নিয়েও কথা হয়েছে দুপক্ষের মধ্যে। আজ আমরা কাজের পদ্ধতির পরিবর্তন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা নিয়েও কথা বলেছি। দুদেশের মধ্যে মানবিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রাশিয়ায় পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি বাড়ানোয় ঢাকা আমাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় আসার আগে জয়শঙ্করের সঙ্গে ল্যাভরভের সাক্ষাৎ, কী কথা হলো?

জাকার্তায় আসিয়ান সম্মেলনে যোগদান শেষে দুদিনের সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছান সের্গেই ল্যাভরভ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একান্ত বৈঠক করেন। পরে দুদেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। বাংলাদেশের জাতীয় নিবার্চন সামনে রেখে ল্যাভরভের এ ঢাকা সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। 

আইএইচআর/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।