শিক্ষিতের চেয়ে অশিক্ষিত মেয়েদের বাল্যবিবাহের হার তিনগুণের বেশি


প্রকাশিত: ০১:২৮ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৬

শিক্ষিত মেয়েদের তুলনায় অশিক্ষিত মেয়েদের বাল্যবিবাহের হার তিনগুনেরও বেশি। ১৮ বছরের নীচে যে মেয়েদের বিয়ে হয় তাদের শিক্ষাগ্রহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। প্রাপ্তবয়সে বিবাহিত নারীদের তুলনায় অপ্রাপ্তবয়সী বিবাহিতদের লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়ার হার দেড়গুণ বেশি।

ডিএফআইডির (ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট) অর্থায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের যৌথ উদ্যোগে ‘বাল্যবিবাহ ও বাংলাদেশে প্রভাব’ শীর্ষক প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনের প্রাথমিক ফলাফলে আজ এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এতে আরো বলা হয়েছে, বাল্যবিবাহের ফলে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের স্বাস্থ্যহানি ঘটে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হারের পরিসংখ্যান বিবেচনায় দেখা গেছে, অপ্রাপ্তবয়সে বিয়ের ক্ষেত্রে তা বেশি ঘটে। তাই বাল্যবিবাহ বন্ধে শিক্ষা গ্রহনের বিকল্প নেই।

গবেষকরা দেশের ১৪টি জেলায় বাল্যবিবাহ রোধে শিক্ষার প্রভাব সম্পর্কিত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক প্রতিবেদন ফলাফলে দেশে শতকরা ৬৭ ভাগ মেয়ের ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে হয়। বাল্যবিবাহের পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ দেশ।  

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বক্তব্য রাখেন- ইউএনএফপিএ বাংলাদেশীয় প্রধান আইওরি কাতো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. বেলাল হোসেন প্রমুখ।

ঢাবি ভিসি বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে শিক্ষার হার বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তিনি বলেন, মেয়েরা যত বেশি শিক্ষিত হবে বাল্য বিবাহের হার তত হ্রাস পাবে।

ইউএনএফপিএ বাংলাদেশীয় প্রধান আইওরি কাতো বলেন, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে বাল্যবিবাহের হার আর খারাপ পর্যায়ে দেখতে চা ইনা। সরকারি নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহের হার হ্রাসে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নীতিমালা ও কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে।

এমইউ/এনএফ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।