পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ শঙ্কায় আজিমপুর জোন-সি’র ৪১৮ পরিবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪:২৬ এএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

একনেক সভার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আজিমপুর সরকারি কলোনির (জোন-সি) ৪১৮টি সরকারি চাকরিজীবী পরিবারের সদস্যরা। হঠাৎ উচ্ছেদের সিদ্ধান্তে সন্তানদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একনেকের সিদ্ধান্ত না মেনে পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা ছাড়াই ভবন ভাঙা ও নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করেছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে এসব উদ্বেগের কথা জানানো হয়।

সম্মেলনে বক্তব্য দেন সি-জোনের বাসিন্দা শামসুন্নাহার জানান, তারা সবাই রাষ্ট্রের কর্মচারী—কেউ সচিবালয়ে, কেউ আদালতে, কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। বছরের পর বছর আজিমপুর জোন-সি এলাকায় বসবাস করে তারা এখানেই গড়ে তুলেছেন পরিবার, সন্তানদের শিক্ষা আর জীবনের স্বপ্ন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানানো হয়, এই কলোনির বাসিন্দাদের সন্তানরা ভিকারুননিসা নূন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ, উদয়ন, বুয়েট স্কুল, ঢাবি ও ঢামেকসহ রাজধানীর নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ছে। বছরের মাঝামাঝি বাসা ভেঙে ফেললে তাদের শিক্ষা জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তারা জানান, গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে একের পর এক দরপত্র আহ্বান করা হলেও আজ পর্যন্ত ৪১৮টি পরিবারের কাউকেই বিকল্প বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অথচ ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল পরিকল্পনা কমিশনের সভায় একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জোন-সি প্রকল্প শুরুর আগে বর্তমান বাসিন্দাদের জোন-বি এলাকায় পুনর্বাসনের কথা ছিল। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে এখন মৌখিকভাবে নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে স্থানান্তরের কথা বলা হচ্ছে, যা পরিবারগুলোর কাছে চরম উদ্বেগ ও হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া এক অভিভাবক বলেন, আমরা কেউ অবৈধ দখলদার নই। রাষ্ট্রের চাকরি করে আজিমপুরে সরকারি নিয়মে বসবাস করছি। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ হলে আমাদের সন্তানদের লেখাপড়া, নিরাপত্তা—সবকিছুই অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন ও লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন। পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যার সমাধানে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন—একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোন-বিতে পুনর্বাসন, জোন-এ’র নবনির্মিত ভবনে অস্থায়ীভাবে স্থানান্তর, অথবা আজিমপুরের অন্যান্য প্রকল্পের মতো দুই ধাপে জোন-সি প্রকল্প বাস্তবায়ন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামসুন্নাহার বলেন, মাসখানেক আগে ৩১টি ভবন ভেঙে ফেলার নোটিশ দিয়ে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। তবে ভাঙার আগে কোথায় তারা যাবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান তিনি।

শামসুন্নাহারের দাবি, ভবনগুলো ভেঙে আধুনিক স্থাপনা গড়ে তোলার আগে বাসিন্দাদের জন্য অন্তত মাথা গোঁজার একটি বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী এলওটি ৩৯ নম্বর ভবনের মুশফিকুর রহমান, শহিদুল ইসলাম ও নাজমুল ইসলাম, ৩২ নম্বর ভবনের সাইফুল ইসলাম, ৪০ নম্বর ভবনের (পুরাতন) মুক্তাদির হোসেন, ২৪ এলওটির নাজমুন নাহার, ২৫ নম্বর এলওটির রীমি আক্তার প্রমুখ।

কেআর/কেএইচকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।