জবিতে প্রথম সংগীত উৎসব


প্রকাশিত: ১২:৩৮ পিএম, ৩১ মার্চ ২০১৬

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রথম সংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জবির সংগীত বিভাগ আয়োজিত এ উৎসব ‘আগুনের পরশমনি….’ গানের সুরের সঙ্গে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর। এছাড়া অতিথিদের উত্তরীয় দিয়ে বরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিধির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আলোকিত মানুষ হওয়ার জন্য সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই। ভালো মানুষ হতে হলে মনের ভেতর শিল্পকলাকে লালন করতে হবে। সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চা  আমাদের মানবিক করে তুলে ।

তিনি আরো বলেন, শিল্প-সাহিত্যের সাথে সকলের ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে হবে, তাহলেই ধর্মে নামে মানুষ হত্যা, ধর্ষণ ও অসামাজিক কার্যকলাপ হ্রাস পাবে। সুস্থ সমাজ গঠনে আমাদেরকে আলোকিত মানুষ হতে হবে।

মন্ত্রী শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, অনেক পিতা মাতা অভিভাবক আছেন তারা শুধু ছেলে মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থেকে ভাল রেজাল্ট করার জন্য পাঠান। খুব কম পিতা মাতাই আছেন যারা তাদের ছেলে মেয়েদের প্রকৃত শিক্ষার জন্য পাঠান।

সংস্কৃতি মন্ত্রী আরো বলেন, দেশে দেশে এখন পরীক্ষার্থী আছে, শিক্ষার্থী নেই। শুধু জিপিয়ে ৫ পাওয়ার জন্য পড়ালেখা করলে চলবে না বরং জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়তে হবে। আর তা না হলে আমরা বড় হয়ে বড় চাকরি করব ঠিকই, তখন আমাদের পরিবারে বাবা, মা অসুস্থ হলেও তাদেরকে দেথতে যাব না। এধরণের পরিস্থিতিতে আমাদের কারো কাম্য নয়।

তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধুতো জ্ঞান আহরোণের জন্য পড়ালেখা করতেন, জেলে যখন থেকেছেন শুধু বই পড়তেন।

জবির প্রথম সংগীত উৎসব-২০১৬ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. লাইসা আহমদ লিসা ভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখের জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, জবি ট্রেজার অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়া।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী নাদিরা বেগম, খায়রুল আনাম শাকিল, অসিত দে, আলী এফ এম রেজেয়ান, বুলবুল ইসলাম, লাইসা আহমদ লিসা, অদিতি মহসিন, শারমিন সাথী ইসলাম, কাঞ্চন মোস্তফা, ড. শেখর মণ্ডল, অণিমা রায়, মাহমুদুল হাসান, প্রিয়াংকা গোপ, বুঝুর আহম্মেদ, পরিতোষ কুমার মণ্ডল, মেহফুজ আল ফাহাদ, ইশরাত জাহান ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ-এর সংগীত বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবৃত্তি পাঠ করেন।

উল্লেখ্য, সংগীত উৎসবের প্রথম পর্বে অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনা, দ্বিতীয় পর্বে রবীন্দ্র সংগীত, তৃতীয় পর্বে নজরুল সংগীত, চতুর্থ পর্বে লোক সংগীত এবং পঞ্চম পর্বে উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিবেশিত হয়।
 
সুব্রত মণ্ডল/এসকেডি/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।