মিশরজুড়ে মেসিকে নিয়ে তোলপাড়


প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ৩১ মার্চ ২০১৬

মাত্র কিছুদিন আগেই আফগানিস্তানের এক ক্ষুদে ভক্তকে জার্সি এবং বল উপহার পাঠিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। নিজের স্বাক্ষর করা কিংবা ব্যবহার করা স্মারক চ্যারিটি ফান্ডে দান করার নজির মেসির কম নয়। তেমনই একটি চ্যারিটি ফান্ডের জন্য নিজের বুটজোড়া উপহার দিয়ে এখন তুমুল সমালোচনার মুখে বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি।

আর সেই জুতোজোড়া নিয়েই মিশর জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে মেসিকে কেন্দ্র করে। কয়েকটি আগে সৌদি মালিকানাধীন মিশরীয় নেটওয়ার্ক এমবিসিতে ‘ইয়েস! আই অ্যাম ফেমাস’- নামক শো-তে একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নেন মেসি। অনুষ্ঠানের নিয়ম হচ্ছে আমন্ত্রিত অতিথিকে স্মারকচিহ্ন হিসেবে কোন কিছু দিতে হয়। পরবর্তীতে সেই জিনিস নিলামে তুলে প্রাপ্ত অর্থ চ্যারিটি ফান্ডে জমা করা হয়। মেসিকে ব্যাপারটা জানানো হলে তিনি তার এক জোড়া বুট অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকার হাতে তুলে দেন। এ থেকেই সমালোচনার সূত্রপাত। কেননা মিশরসহ পুরো আরব বিশ্বে কাউকে জুতা দেয়া মানে চরম অপমান হিসেবে গণ্য করা হয়।

সাইদ হাসনাইন নামে মিশরের একজন এমপি লাইভ টেলিভিশনে নিজের জুতো খুলে বলেন ‘আমাদের সাত হাজার বছরের সভ্যতায় আমরা কখনো এতটা অপমানিত হইনি। মেসি আমি তোমাকে এই জুতা দিয়ে মারব। এটা আমার জুতা। আমি আমার জুতা তোমার দেশ আর্জেন্টিনায় দান করলাম।’

মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র আজমী মেঘাহেদ তার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছেন- ‘আমাদের দরিদ্র লোকদের মেসিকে প্রয়োজন নেই। জুতো তার প্রয়োজন। আমি দ্বিধান্বিত, সে কি আমাদের অপমান করতে এমনটা করেছে কি না। যদি তাই হয় তবে আমি বলব জুতো জোড়া তোমার এবং তোমাকে যারা সমর্থন করে তাদের মাথার উপর রেখে দাও। আমাদের ওর জুতার প্রয়োজন নেই, কোন ইহুদী কিংবা ইজরাইলি লোকের কাছ থেকেও আমাদের চ্যারিটির দরকার নেই। তোমার জুতা তোমার দরিদ্র দেশ আর্জেন্টিনায় দান করো।

saidhasasin

‘তবে সাবেক মিশরীয় ফুটবলার মিডো মেসির পক্ষে এগিয়ে এসেছেন। সাবেক টটেনহাম এবং সেল্টা ভিগোর এই ফুটবলার টুইটারে লিখেছেন ‘একজন লেখকের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে তার কলম। ঠিক তেমনি একজন ফুটবলারের সবচেয়ে দামি বস্তু তার বুট।’

অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা, যিনি মেসির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, সেই মোনা এলসারকয়ে বলেছেন ‘এটা আমাদের অনুষ্ঠানের নিয়ম, আমরা অতিথিদের কাছ থেকে কোন জিনিস চেয়ে নিই, তারপর সেটিকে চ্যারিটির কাজে নিলামে তুলি। আমি বিস্মিত, কেননা আমি কখনো বলিনি যে আমরা মেসির বুটজোড়া মিশরে বা অন্য কোন দেশে নিলামে তুলতে যাচ্ছি।’

টুইটারে @সালা৭৭এআর৭অ্যাশ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়েছে, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক একটি বিষয়। তাকে হাজার হাজার ডলার দিয়ে এই অনুষ্ঠানে আনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি আমাদেরকে তার জুতোজোড়া উপহার দিয়ে গেলেন! আর স্টুপিড উপস্থাপিকা কী নির্লজ্জভাবেই না সেটা আবার গ্রহণ করেছে।’ সুলেমান আহমাদ নামে একজন লিখেছেন, ‘মেসির জুতোর চেয়ে মিশর নামটি বড়- এই কথাটিই এখন লিখতে হচ্ছে আমাদেরকে। এর চেয়ে বড় অপমান আর কী হতে পারে!’

আইএইচএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।