তথ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাবলয় নিশ্চিতে ফ্যামিলি কার্ড

প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম
প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম
প্রকাশিত: ০৯:৪৮ এএম, ০৭ মার্চ ২০২৬

সামাজিক নিরাপত্তাবিধান একটি রাষ্ট্রের মানবিক ও কল্যাণমুখী চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। পেশাদারি সমাজকর্মের ইতিহাসে কিংবা আধুনিক কল্যাণরাষ্টের অধীনে এই ধরনের সংগঠিত সরকারি কর্মসূচি হাতে নেবার অনেক উদাহরণ রয়েছে। ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন, বেভারেজ রিপোর্ট, আমেরিকার দান সংগঠন সোসাইটি (সিওএস) পর বিভিন্ন দেশে সামাজিক সংস্কারমূলক সরকারি উদ্যোগে সুসংগঠিত সামাজিক সাহায্য ও সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণের নজির দেখতে পাওয়া যায়।

মূলত: দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অসুস্থতা, বার্ধক্য কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ঝুঁকির মুখে নাগরিকদের ন্যূনতম সুরক্ষা নিশ্চিত করা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম দায়িত্ব। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্যামিলি কার্ড ধারণাটি এই সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও কার্যকর, লক্ষ্যভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার একটি প্রচেষ্টা। আমাদের দেশে শুধু নিম্নআয়ের মানুষকে এই কার্ডের আওতায় ভাবা হচ্ছেনা। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল নাগারিক এই ফ্যামিলি কার্ডের সেবার অর্ন্তভূক্ত হতে পারবেন। শুরুতেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রান্তিক, হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ২ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রীসহ ১৫ সদস্যের 'ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি' গঠন করা হয়েছে। পরিবারের একজন নারী সদস্য এই কার্ডের জন্য বিবেচিত হবেন।

উক্ত কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, ‘ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থাপনার একটি উপযুক্ত ডিজাইন প্রণয়ন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি চূড়ান্ত করা, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কার্ডকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা, সুবিধাভোগীদের ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজের আওতায় প্রয়োজনীয় ডিজিটাল এমআইএস প্রস্তুত করা।’

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির দৃষ্টিতে বলা যায়, ফ্যামিলি কার্ড ধারণাটি মূলত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, কারণ এটি পরিবারকেন্দ্রিক ও তথ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাবলয়ের নিশ্চয়তা বিধানে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে স্বচ্ছ বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সঠিক তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড সামাজিক নিরাপত্তাবিধানে একটি শক্তিশালী ও টেকসই হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

আমাদের নতুন সরকার সর্বপ্রথম উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আপাতত: দেশের হতদরিদ্র, নিম্নবিত্ত মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছানো ও নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কোন কোন সামাজিক গবেষক ও বিশ্লেষকগণ ভাবছেন, আমাদের মতো একটি বিশাল জনসংখ্যার দেশে সুগভীর মাঠ জরিপ ছাড়াই অতিদ্রুত এই ধারণা বাস্তবায়ন শুরু করা কতটুকু দূরদৃষ্টিসম্পন্ন? এ বিষয়ে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি কেমন?

দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যে-কোনো রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিঘাতে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা যখন চাপে পড়ে, তখন লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তাবিধানে এক যুগান্তকারী দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, এমন নানা উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে ভর্তুকিযুক্ত দামে নিত্যপণ্য সরবরাহ কর্মসূচি সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব উদ্যোগকে আরও সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্যভিত্তিক করা সম্ভব।

ফ্যামিলি কার্ডের অন্যতম শক্তি হলো উপকারভোগীদের সুনির্দিষ্ট শনাক্তকরণ। জাতীয় পরিচয়পত্র, আয়-তথ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারকে তালিকাভুক্ত করা গেলে সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। এতে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব কমার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে একই পরিবার একাধিক কর্মসূচির আওতায় দ্বৈত সুবিধা নেওয়ার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

এই ফ্যামিলি কার্ড আমাদের দেশে সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ভিত্তি হতে পারে। ফ্যামিলি কার্ডের ডাটাবেজকে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে সংযুক্ত করলে দরিদ্র পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার একটি সমন্বিত চিত্র পাওয়া যাবে। ফলে দুর্যোগকালীন ত্রাণ, স্বাস্থ্য সহায়তা বা শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রেও দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে তার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ওপর। এ বাস্তবতায় সরকারি সহায়তা কার্যক্রমকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর করতে ফ্যামিলি কার্ড একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে।

ফ্যামিলি কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রকৃত উপকারভোগীদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা এবং তাদের কাছে ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে নিত্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। অনেক সময় দেখা যায়, সহায়তার তালিকায় অযোগ্য ব্যক্তির নাম যুক্ত হয়, আবার প্রকৃত দরিদ্র পরিবার বাদ পড়ে যায়। একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজভিত্তিক ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা এই অনিয়ম অনেকাংশে কমাতে সক্ষম। জাতীয় পরিচয়পত্র, আয়-তথ্য ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির তথ্য একীভূত করে স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করা গেলে সহায়তা বণ্টন হবে আরও সুনির্দিষ্ট।

নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতেও ফ্যামিলি কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্দিষ্ট কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত পরিমাণে পণ্য সরবরাহ করলে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ কমে যায়। ফলে বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও মজুতদারির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। একই সঙ্গে সরকারি সংস্থা যেমন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর মাধ্যমে নিয়মিত ও পরিকল্পিত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তবে শুধু কার্ড চালু করলেই সাফল্য আসবে না। এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত তদারকি জরুরি। কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতি যেন স্থান না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে তালিকা সংশোধন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। মোবাইল এসএমএস বা অ্যাপভিত্তিক নোটিফিকেশনের মাধ্যমে কার্ডধারীরা জানতে পারবেন কখন ও কোথায় পণ্য বিতরণ হবে। এতে ভিড়, বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম কমবে। একই সঙ্গে অনলাইন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার সরবরাহ ও বিক্রির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভূমিধস বিজয়ের পর ফ্যামিলি কার্ড ধারণাটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নিকট গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এই অ্যাজেন্ডা অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে চলে এসেছে। সামাজিক নিরাপত্তাবিধানে ফ্যামিলি কার্ড ধারণা বাস্তবায়নে আমাদের আর্থিক প্রস্তুতি কেমন, তা নিয়ে বিশ্লেষকগণ কি ভাবছেন তা নিয়ে একটু আলোকপাত করা যাক্।

প্রথমত, ফ্যামিলি কার্ড একটি পরিবারভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার গঠনের সুযোগ সৃষ্টি করে। আগে অনেক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ব্যক্তি বা বিচ্ছিন্ন তালিকার ওপর নির্ভর করত, ফলে একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা পেতেন, আবার প্রকৃত দরিদ্র কেউ কেউ বাদ পড়তেন। পরিবারকে একটি একক ইউনিট হিসেবে চিহ্নিত করলে পরিবারের আয়, সম্পদ, সদস্যসংখ্যা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অবস্থার সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যায়। এতে সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বৃদ্ধি পায়।

দ্বিতীয়ত, লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি প্রদানে ফ্যামিলি কার্ড কার্যকর হতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, খাদ্যশস্য বা অন্যান্য সহায়তা স্বল্পমূল্যে প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার নির্দিষ্ট পরিবারকে চিহ্নিত করে সুবিধা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিতরণ কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ড ব্যবহারের ফলে প্রকৃত নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এতে বাজারে অযৌক্তিক ভিড় কমে এবং কালোবাজারি বা অনিয়মের সুযোগ হ্রাস পায়।

তৃতীয়ত, ডিজিটাল ডাটাবেজের সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড যুক্ত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে একটি সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হয়। জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাবৃত্তির তথ্য একত্রে সংযুক্ত করা গেলে পরিবারভিত্তিক সামাজিক মানচিত্র তৈরি করা যায়। এতে নীতিনির্ধারকরা বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এই ধারণার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রথমত, সঠিক তথ্যসংগ্রহ ও সেই তথ্য হালনাগাদ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি বা তথ্যের ঘাটতির কারণে প্রকৃত দরিদ্র বাদ পড়তে পারে এবং তুলনামূলক সচ্ছল পরিবার তালিকাভুক্ত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা না হলে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকবে। তৃতীয়ত, শুধু কার্ড বিতরণ করলেই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। এর সঙ্গে কার্যকর মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও প্রয়োজন রয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির দৃষ্টিতে বলা যায়, ফ্যামিলি কার্ড ধারণাটি মূলত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, কারণ এটি পরিবারকেন্দ্রিক ও তথ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাবলয়ের নিশ্চয়তা বিধানে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে স্বচ্ছ বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সঠিক তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড সামাজিক নিরাপত্তাবিধানে একটি শক্তিশালী ও টেকসই হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

এক্ষেত্রে ফ্যামিলি কার্ড হতে পারে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার একটি কার্যকর ভিত্তি। সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন ও নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ দরিদ্র মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিত্যপণ্যের বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনস্বার্থে এমন উদ্যোগকে শক্তিশালী ও টেকসই করা এখন সময়ের দাবি।

লেখক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন।
[email protected]

এইচআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।