কর বাড়ছে, কমছে মানুষের বেঁচে থাকার সামর্থ্য

শাহানা হুদা রঞ্জনা
শাহানা হুদা রঞ্জনা শাহানা হুদা রঞ্জনা
প্রকাশিত: ০৯:২৩ এএম, ২০ মে ২০২৬

মানুষের আয় বাড়ছে না, বরং কমছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় বেকার বাড়ছে, বিশেষ করে শিক্ষিত ও তরুণ বেকার। অনেকেই কাজ হারিয়ে ইতোমধ্যে পথে বসেছেন। মধ্যবিত্তদের বড় একটা অংশ নিম্নবিত্তের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। এই বর্ণনাগুলো কোনোটাই বানানো নয়, সবটাই কঠিন বাস্তবতা।

ঠিক এরকম একটি অবস্থায় চাল, ডাল, তেল, ফলসহ ২৮টি নিত্যপণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সবকিছু বাদ দিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষগুলোকে সরকারের কোপানলে ফেলতে ইচ্ছা হলো?

এনবিআর কৃষি ও খাদ্যপণ্যের স্থানীয় সরবরাহের ওপর উৎসে কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করতে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও কর ফাঁকি রোধ। এর শতভাগ নেতিবাচক ফলাফল এসে পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তারা কিনত ১০০ টাকায়, সরাসরি তা কিনতে হবে প্রায় দ্বিগুণ দামে।

কেন বিলাসসামগ্রী বাদ দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর কর দ্বিগুণ করতে হচ্ছে? এ তালিকায় যা যা রয়েছে, সেগুলো সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের খাবার। এর মধ্যে আছে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনি, গোলমরিচ, গরম মসলা, খেজুর, তেজপাতা ও সব ধরনের ফল। এই মূল্যবৃদ্ধির আগেও বহুবার, বহুভাবে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছে, এরপর হয়তো ডুবে যাবে।

এই নতুন কর আরোপের কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হবে এবং বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়বে। অবশ্য সাধারণ মানুষের অবস্থা যত বেশি কঠিন হবে, সরকারের কোষাগারে তত বেশি অর্থ ঢুকবে। তাই এনবিআর সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম বলছে, সঠিকভাবে এই খাত থেকে কর আদায় করা গেলে নতুন করহার অনুযায়ী বছরে ৫০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হতে পারে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ২০২৫ সালে করা‘পরিবার পর্যায়ে মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের মানুষের আয় কমেছে কিন্তু খরচ বেড়েছে। অপেক্ষাকৃত গরিব পরিবারগুলো আয়ের চেয়ে বেশি খরচ করে ঋণের বোঝা বাড়াচ্ছে। একটি পরিবারে মোট খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশই যাচ্ছে খাবারের পেছনে। একই সঙ্গে দ্রুত বাড়ছে শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ও। সেক্ষেত্রে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের ওপর বাড়তি কর আরোপ করা হবে, তখন মানুষের অবস্থা কতটা সংকটাপন্ন হবে, তা সহজেই অনুমেয়।

আজকে যে এনবিআর জনগণের ওপর বাড়তি করের ভার চাপানোর পরিকল্পনা করছে, সেই এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান ২০২৩ সালে যখন ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সভাপতি ছিলেন, তখন এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যকে উৎসে করের আওতার বাইরে রাখার সুপারিশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় সব ধরনের কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎসে কর কর্তনের আওতার বাইরে রাখা উচিত। (সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)। চেয়ারম্যান হয়ে এখন তার কথা পাল্টে গেল কেন?

পিপিআরসির সমীক্ষায়ই বলা হয়েছিল, দারিদ্র্যসীমার বাইরে থাকা মানুষের মধ্যে অন্তত ১৮ শতাংশ এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে, যারা হঠাৎ যে কোনো দুর্যোগে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে। আশঙ্কা হচ্ছে, এখনই সেই দুর্যোগের সময় এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইতোমধ্যে বহু জমির ধান, আলু ও অন্যান্য ফসল তলিয়ে গেছে। যেগুলো ছিল, সেগুলোও কৃষক কাটতে পারছেন না বিভিন্ন কারণে। কৃষকের মাথায় ঋণের বোঝা ঝুলছে।

দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল সমীক্ষাটিতে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য ‘আয় কমে যাওয়া’ ছিল বড় উদ্বেগের বিষয়। ‘ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ৪০ শতাংশ দরিদ্র পরিবার, যা এখন আরও বেড়েছে বলে অনুমান করা যায়।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে হলে সর্বপ্রথম চাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা হ্রাস। সরকার নিজের ঘরে টাকা টানতে চাইলে বিলাসসামগ্রীর ওপর কর বাড়াক ও ধনীদের কাছ থেকে শতভাগ আয়কর উদ্ধার করুক। কাজের অভাব, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও দ্রব্যমূল্যের কারণে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর নিরাশা ও অনিশ্চয়তায় ভুগছে, তাদের মুক্তি দিন।

এর পাশাপাশি সমাজে প্রতিনিয়ত সংঘাতমূলক মনোভাব ছড়াচ্ছে। একদিকে দেশে কর্মসংস্থান নেই, অন্যদিকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগও কমে গেছে। অভিবাসী শ্রমিকরা ইরান-আমেরিকার যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ঠিকভাবে ক্লাসে আনা যায়নি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনো গুমোটভাব আছে। ঠিক বোঝা যাচ্ছে না সার্বিক পরিস্থিতি কেমন বা কোন দিকে যাচ্ছে। সমাজের নানা আর্থিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিক উদ্বেগের কারণে প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা হারিয়েছে।

করের হার বাড়ানো হলে এর বোঝা শেষপর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়ে, যা খুচরা বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। এই সহজ হিসাবটা বোঝার জন্য অর্থনীতির জ্ঞান না থাকলেও চলে, শুধু সংসার চালানোর অভিজ্ঞতা থাকলেই হয়। গত তিন বছর ধরে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী, যার অবস্থান প্রায় ১০ শতাংশের কাছে। ধারদেনা করে ও বাড়তি টাকা খরচ করে জীবনধারণ করা যে কতটা কষ্টের, এটা শুধু ভুক্তভোগীরাই বুঝবেন।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কর বেড়ে গেলে পণ্যের উৎপাদন খরচও বেড়ে যেতে বাধ্য। আর একবার কর বেড়ে গেলে, অর্থাৎ এনবিআরের হাতে গেলে, ওই টাকা আর ফেরত পাওয়া যায় না। এজন্য করকে খরচ হিসাব করে তা পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

বাজার, বাড়িভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত, বিনোদন, গ্যাস-পানি ও বিদ্যুতের বিল- সব কিছুর দাম দফায় দফায় বাড়ছে। কিন্তু মানুষের আয় বাড়ছে না। দুর্নীতি ও চুরি না করলে সাধারণত আয় দ্রুত বাড়েও না। বরং অধিকাংশ মানুষের আয় কমছে, মানুষ কাজ হারাচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর বহু কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন বিনিয়োগ হয়নি। মানুষ কাজ হারিয়ে গ্রামে ফিরে গেছেন। অনেকে ফুটপাতে ছোটোখাটো ব্যবসা শুরু করেছেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ একসময় মধ্যবিত্ত ছিলেন, চাকরি-বাকরি করতেন। জীবনযাপনের ব্যয় বৃদ্ধিতে অনেকেই এখন আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২৭.৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে (পিপিআরসি)। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএসের ২০২২ সালের জরিপ অনুযায়ী এই হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ। অর্থাৎ দেশে তিন বছরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি, দারিদ্র্য ও বৈষম্য নিয়ে অনেকটা একই ধরনের বার্তা দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ: দারিদ্র্য ও বৈষম্য বিশ্লেষণ, সমৃদ্ধির পথে অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে দরিদ্র ৩ কোটি ৬০ লাখ। বাংলাদেশ দারিদ্র্য কমানোর দিক থেকে বিশ্বে সুনাম কুড়িয়েছিল। কিন্তু এখন পেছনের দিকে হাঁটছে। দেশে চার বছর ধরে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে।

বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি ও সার্বিকভাবে অর্থনীতির স্থিতিশীলতার প্রশ্নে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। সেখানেও দাবি করা হয়েছিল, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসার সম্ভাবনা নেই। বরং এ বছর বাংলাদেশে আরও ৩০ লাখ মানুষ অতি দারিদ্র্যের মধ্যে পড়বে। বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ২২.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে-এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল।

২০২৬ সালে এসে দেশের অর্থনীতি আরো বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অর্থমন্ত্রী সেদিন নিজেই বলেছেন, দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে আরও দুই বছর লাগবে। দেশে নতুন সরকারকে যুদ্ধ করতে হবে মূল্যস্ফীতি, অর্থসংকট, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট, দুর্বল বিনিয়োগ ব্যবস্থা, দুর্নীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সঙ্গে।

বিভিন্ন এলাকায় টিসিবির ট্রাকগুলো ঘিরে দিনব্যাপী কয়েকশ মানুষের লাইন ও হইচই দেখলেই বোঝা যায়, কিছুটা কম দামে পণ্য কিনতে কড়া রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন অনেকেই। এদের মধ্যে শুধু নিম্নবিত্ত মানুষই নন, অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষও আছেন। নিজেদের জীবনসংগ্রাম ও বিভিন্ন খবরাখবর অনুযায়ী স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি জনজীবনে চরম সংকট তৈরি করেছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ (প্রায় ৭০ শতাংশ) দ্রব্যমূল্য নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।

যদিও বিবিএসের তথ্যমতে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও বছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমেছিল। কিন্তু এতে বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য বেঁচে থাকাটাই সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আর নিম্নবিত্ত মানুষের কথা বলার কিছু নেই। সারাটা জীবন এই মানুষগুলোকে দুর্বিষহ অবস্থার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক- সব দিক থেকে এরা সর্বহারা। কোনোমতে জীবন টেনে নিয়ে যাওয়াই তাদের কাছে কঠিন। নির্দিষ্ট কোনো খাদ্যতালিকাও নেই, নেই থাকার জায়গা, পরনের কাপড়, ওষুধ, চিকিৎসা, বিনোদন ও পড়াশোনার সুযোগ। আদতে কিছুই নেই তাদের। এরা কাজের খোঁজে গ্রাম থেকে শহরে আসে। শহরে এসে কোনোমতে মাথাগুঁজে বস্তিবাসী জীবনযাপন করেন এবং একদিন আবার সব হারিয়ে গ্রামেই ফিরে যান। এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. সেলিম রায়হান বলেন, নতুন করে একটা বড়সংখ্যক মানুষ যে দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ে গেছে, তার একটা বড় কারণ উচ্চ মূল্যস্ফীতি। পাশাপাশি এই সময়ে মানুষের কর্মসংস্থান যেমন তৈরি হয়নি, বাড়েনি প্রকৃত আয়। অথচ প্রতিনিয়ত দ্রব্যের অধিক মূল্য তাদেরকে দিতে হচ্ছে। (সূত্র: বিবিসি বাংলা)

মুদ্রাস্ফীতিকে অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শত্রু বলে মনে করেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। কারণ মুদ্রাস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দেয় এবং ভোক্তাদের জীবনমানকে দুর্বিষহ করে তোলে। মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ে, বাড়ে সামাজিক অস্থিরতা। তবে এখন দেশের নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির অস্থিরতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে কর দ্বিগুণ করলে অবস্থা কঠিনতর হবে।

সরকার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলছে, কিন্তু কাজ হচ্ছে না কিছুই। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলছে। এর হাত থেকে বাঁচার জন্য সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকারকে গুরুত্ব দিতে বলছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে সুষমভাবে সহায়তা পৌঁছাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সামাজিক সুরক্ষা খাতে অতীতের তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা কমেছে। এছাড়া সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক অনিয়ম রয়েছে। দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে হলে সহায়তা কর্মসূচির আওতা, ভাতা এবং দক্ষতা-তিনটিই বাড়াতে হবে। (সূত্র: অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন)

ঠিক এর উল্টোটা ঘটছে বাংলাদেশে। এখানে দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হচ্ছে, মধ্যবিত্তরা দরিদ্রের খাতায় নাম লেখাচ্ছে অথচ ধনীরা বেশি সামাজিক সুরক্ষা পাচ্ছে। সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়া উচিত গরিবদের। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালে সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের মাত্র অর্ধেক এসব সামাজিক সহায়তা পেয়েছে। অথচ সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের ৩৫ শতাংশও এসব সুবিধা পেয়েছে। এই ধারা চলছেই।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে হলে সর্বপ্রথম চাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা হ্রাস। সরকার নিজের ঘরে টাকা টানতে চাইলে বিলাসসামগ্রীর ওপর কর বাড়াক ও ধনীদের কাছ থেকে শতভাগ আয়কর উদ্ধার করুক। কাজের অভাব, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও দ্রব্যমূল্যের কারণে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর নিরাশা ও অনিশ্চয়তায় ভুগছে, তাদের মুক্তি দিন।

১৯ মে, ২০২৬

লেখক: যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক।

এমএফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।