সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে উঠুক শিশুরা

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:৫৮ এএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বলা হয়ে থাকে আজকের শিশুই আগামী। সেজন্য শিশুরা যাতে একটি সাংস্কৃতিক আবহের মধ্যে বেড়ে উঠতে পারে সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুর পরিবেশ যদি সুষ্ঠু সুন্দর না হয় তাহলে তারা সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে না। এরফলে যোগ্য নাগরিক হিসেবে দেশ ও জাতি গঠনেও তারা তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না। এ কারণেই শিশুর পরিচর্যার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি।

যে জাতি শিশুদের পরিচর্যা করেছে, তাদের বেড়ে উঠার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করেছে তারাই উন্নত সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমাদের দেশে শিশুদের বেড়ে উঠার স্বাভাবিক পরিবেশ অনেকটাই অনুপস্থিত। বিশেষ করে খেলার জন্য মাঠ নেই, সাঁতারের জন্য পুকুর নেই, পড়ার জন্য পাঠাগার নেই। সবচেয়ে বড় কথা এসব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার মতো সময়ও তাদের নেই। কেবল পাঠ্যবইয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে তারা। পড়া পড়া আর পড়া করে তাদের জীবন থেকে শৈশব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। শৈশবের নির্মল আনন্দে বঞ্চিত হয়ে যারা বেড়ে উঠছে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ হচ্ছে না।

মা বাবাকে শিশুদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। শিশুর সাথে মিশতে হবে; তাকে স্নেহ করাটা অতীব জরুরি। শিশুর আবদার (ন্যায়সঙ্গত)পূরণ করতে হবে। বকাঝকা করা অনুচিত; শিশুরা ভুল করে শিখে। কোন দোষ করলে বুঝাতে হবে। খেলাধূলার পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে, মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।

আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নেতৃত্ব দিবে। কাজেই তাদের বিকাশের পথটি হতে হবে সুষ্ঠু সুন্দর। বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক জীবন ব্যবস্থায় শিশুরা একেবারেই খেলাধুলাসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাঠ দখল হয়ে উঠছে মার্কেট, বসত বাড়ি। বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের অধিকার থেকে। খুপরি ঘরের মধ্যে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মাঠ তো দূরের কথা এসব প্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো আলোবাতাসই ঢুকে না।

আর গ্রামের স্কুল-কলেজেও খেলাধুলার দিকে নজর কম। মাঠ থাকলেও খেলাধুলা হয় কম। অনেক প্রতিষ্ঠানে নেই ক্রীড়া শিক্ষক। ওঠে গেছে ক্লাব কালচারও। প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে মানুষ অনেকটা স্বেচ্ছাবন্দী ও আত্মকেন্দ্রিক। শিশুরাও এর বাইরে নয়। এই অচলায়তন ভাঙতে হবে। শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিতে হবে প্রয়োজনীয়ও সব ব্যবস্থা।

এইচআর/জেআইএম

‘পড়া পড়া আর পড়া করে তাদের জীবন থেকে শৈশব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। শৈশবের নির্মল আনন্দে বঞ্চিত হয়ে যারা বেড়ে উঠছে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ হচ্ছে না।’