নদীভাঙন রোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০৯ এএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নদীমাতৃক বাংলাদেশে ভাঙনের কবলে পড়ে প্রতি বছর মানুষজন নিঃস্ব হয়। এ কারণেই ভাঙন রোধে থাকে পরিক্ল্পনা। থাকে আর্থিক বরাদ্দ। কিন্তু ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হওয়া যেন ললাট লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। না হলে তেমন কোনো ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয় না। একদিকে মানুষজন নিঃস্ব হবে অন্যদিকে নদী ভাঙনরোধের নামে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ শ্রদ্ধা হবে-এটা হতে পারে না। ভাঙন রোধে তাই অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

পদ্মা এবার ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। এখনও অব্যাহত রয়েছে পদ্মার ভাঙন। গত দেড় বছরে পদ্মার ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে ৫ হাজার ৮১টি পরিবার। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ৮ হাজার পরিবার। তবে এ ভাঙনে নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর, মোক্তারের চর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। পদ্মা তীরবর্তী শরীয়তপুরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বছরের পর বছর ধরে চলছে নদী ভাঙন। এতে সর্বস্বান্ত হয়ে ঠিকানাহীন হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। অব্যাহত ভাঙনে শরীয়তপুরের মানচিত্র ছোট হয়ে এলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি আজও।

এদিকে চলতি বছরের জুন মাস থেকে নড়িয়া এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। সম্প্রতি ভাঙনের তীব্রতা ও ভয়াবহতা বৃদ্ধি পায়। প্রমত্তা পদ্মার স্রোতে মুহূর্তেই নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও কোনো কাজে আসছে না। প্রতি বছরই শরীয়তপুরে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে পদ্মা। তবে দুই বছর যাবৎ এর মাত্রা সবচেয়ে বেশি। ভাঙনে বিশাল বিশাল স্থাপনা মুহূর্তেই যেন গিলে খাচ্ছে সর্বনাশা পদ্মা। নিঃস্ব মানুষের আহাজারিতে এখন ভারি হয়ে উঠেছে পদ্মার পাড়।

গত ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পদ্মার ভাঙনের শিকার হয়েছে ৫ হাজার ৮১টি পরিবার। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ৮ হাজার পরিবার। তবে স্থানীয়রা বলছেন ৬ হাজারেরও বেশি পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৮১টি পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছেন। প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (যাদের ভেতর ৫৫ ভাগ দরিদ্র)। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮ হাজার একর জমি ও ২৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। একটি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ২৫০ সয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতালের অর্ধেক নদী গর্ভে চলে গেছে।

ভাঙনকবলিত মানুষেল দুর্দশার কোনো সীমা নেই। সকাল বেলার আমির বিকেলেই হয়ে যাচ্ছে ফকির। এই অবস্থা কিছুকেই কাঙ্খিত হতে পারে না। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের জন্য শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার প্রায় ৯ কিলোমিটার জুড়ে পদ্মার ডান তীর রক্ষা প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প গত ২ জানুয়ারি একনেক সভায় পাস হয়। পদ্মা সেতু থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৭ কোটি টাকা।

২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে পদ্মার ভাঙনের তীব্রতা রোধে জুলাই মাসে সাড়ে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ অর্থ ব্যবহার করে ১১ জুলাই থেকে ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়ে অব্যাহত আছে। এই খাতে নতুন করে আরও ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এত বরাদ্দের পরও ভাঙন কেন ঠেকানো যায় না সে এক বিরাট প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, যদি ভাঙন ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হত তাহলে লোকজনকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করা যেত। তাছাড়া ভাঙনের সমস্যা নতুন নয়। কাজেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্প নিয়ে এগুনোর বিকল্প নেই। ভাঙনের ফলে যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাৎক্ষণিক সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে। ভাঙন রোধে কারো কোনো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

এইচআর/জেআইএম

এত বরাদ্দের পরও ভাঙন কেন ঠেকানো যায় না সে এক বিরাট প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, যদি ভাঙন ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হত তাহলে লোকজনকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করা যেত। তাছাড়া ভাঙনের সমস্যা নতুন নয়। কাজেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্প নিয়ে এগুনোর বিকল্প নেই। ভাঙনের ফলে যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাৎক্ষণিক সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে। ভাঙন রোধে কারো কোনো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

আপনার মতামত লিখুন :