অযৌক্তিক ধর্মঘটে সীমাহীন দুর্ভোগ

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০৬ এএম, ২৯ অক্টোবর ২০১৮

পরিবহন সেক্টরের সৃঙ্খলা নিয়ে কম কথা হয়নি। কিন্তু দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে এই সেক্টরের লোকজন। আইন-কানুনের তোয়াক্কা করছেন না তারা। সদ্য পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের প্রতিবাদে নেমে সবকিছু অচল করে দেয়ার ডাক দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা রোববার থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দাবি মেনে নেয়ার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয় মানুষজনকে। এই অবস্থা চলতে পারে না। অযৌক্তিক দাবির ধর্মঘটে মানুষজন দুর্ভোগ পোহাবে এটি মেনে নেয়া যায় না।

পরিবহন শ্রমিকদের আট দফা দাবি হলো- ১. সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে; ২. শ্রমিকদের অর্থদণ্ড পাঁচ লাখ টাকা করা যাবে না; ৩. সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে; ৪. ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে; ৫. ওয়েটস্কেলে (ট্রাক ওজন স্কেল) জরিমানা কমানোসহ শাস্তি বাতিল করতে হবে; ৬. সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে; ৭. গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে; ৮. সব জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপকহারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে এবং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলনের মুখে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে সড়ক পরিবহন বিল পাস হয়। নতুন এই আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে দোষী চালকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া আইনে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও বিধান আছে। সে ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে নৈরাজ্য বন্ধ করতে হলে আরো কঠোর সাজার বিধান থাকা প্রয়োজন। সেখানে মালিক-শ্রমিকরা এই আইন মানতে চান না। এ জন্যই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তারা। মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের কৌশল বরাবরই নিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। কিন্তু এই অপকৌশল বাস্তবায়ন হতে দেয়া যায় না। সড়কে মানুষের জীবন যাচ্ছে কিন্তু সে তুলনায় অপরাধীর তেমন কোনো শাস্তি হচ্ছে না। আর এ কারণে একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে।

পরিবহন মালিক শ্রমিকরা দাবি দাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু ধর্মঘট ডেকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের অগণতান্ত্রিক পন্থা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সবাই একমত। এজন্য যথাযথ আইনের প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য। আমরা আশা করবো পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। ধর্মঘট প্রত্যাহার করে জনভোগান্তিরও অবসান ঘটাবেন।

এইচআর/জেআইএম

পরিবহন মালিক শ্রমিকরা দাবি দাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু ধর্মঘট ডেকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের অগণতান্ত্রিক পন্থা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সবাই একমত। এজন্য যথাযথ আইনের প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য। আমরা আশা করবো পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। ধর্মঘট প্রত্যাহার করে জনভোগান্তিরও অবসান ঘটাবেন।

আপনার মতামত লিখুন :