বাজেট : আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০৭ এএম, ১৫ জুন ২০১৯

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে গত বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন। এটি দেশের ৪৮তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম এবং অর্থমন্ত্রীরও প্রথম বাজেট প্রস্তাব। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে প্রস্তাবিত স্মার্ট বাজেটের আকার ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি।

গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর বহির্ভূত আয় ধরা হয়েছে ৩৭ লাখ ৭১০ কোটি টাকা। নতুন বছরে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। নতুন বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বৈদেশিক সহায়তা বাবদ ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে সরকার। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সংগ্রহ করা হবে ২৭ হাজার কোটি টাকা। ব্যয়ের খাত বাড়লে আয়ের উৎসও বাড়াতে হবে। তবে বাজেট যেন জনসাধারণের জন্য বোঝা না হয়ে তাদের জন্য কল্যাণকর হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

বাজেট কেবল একটি দেশের এক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়। একটি রাজনৈতিক সরকারের দর্শন ও অর্থনৈতিক নীতি প্রতিফলিত হয় বাজেটের মধ্য দিয়ে। সেবা থেকে উন্নয়ন, বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রের নাগরিকরা যেসব ক্ষেত্রে যা পেতে চান বা রাষ্ট্র যে সেবা নিশ্চিত করতে চায়, তা এই বাজেটের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়। ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অন্য যে কোনো ধরনের উন্নয়নও নির্ভর করে বাজেটের ওপর।

বাজেট এলে মানুষের মধ্যে যেমন আশার সঞ্চার হয় তেমনি দেখা দেয় দুর্ভাবনাও। জিনিসপত্রের দাম বাড়া থেকে শুরু করে বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার সার্বিক ব্যয় আরো বাড়লো কিনা এ নিয়ে চিন্তায় থাকেন তারা। এছাড়া করের বোঝা কতোটা চাপলো, বেকারত্ব দূর করা থেকে শুরু করে নাগরিক সুযোগ সুবিধা কতোটা নিশ্চিত হলো-এ বিষয়গুলোও ভাবনায় থাকে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সৃষ্টির প্রয়াস কতোটা থাকছে বা ব্যাংকের সুদের পরিমাণ কমছে কিনা-এসবও ভাবনায় থাকে। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরাও তাকিয়ে থাকেন বাজেটের দিকে। এক্ষেত্রে কী প্রণোদনা থাকছে সেটিও দেখার বিষয়।

সবদিক মিলিয়ে সরকারের কাজ হচ্ছে জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এজন্য সুশাসন জরুরি। এবারের বাজেটে জনপ্রত্যাশা পূরণ হবে- এমনটিই দেখতে চায় দেশের মানুষ।

এইচআর/জেআইএম

বাজেট কেবল একটি দেশের এক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়। একটি রাজনৈতিক সরকারের দর্শন ও অর্থনৈতিক নীতি প্রতিফলিত হয় বাজেটের মধ্য দিয়ে। সেবা থেকে উন্নয়ন, বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রের নাগরিকরা যেসব ক্ষেত্রে যা পেতে চান বা রাষ্ট্র যে সেবা নিশ্চিত করতে চায়, তা এই বাজেটের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়। ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অন্য যে কোনো ধরনের উন্নয়নও নির্ভর করে বাজেটের ওপর।

আপনার মতামত লিখুন :