আবার বন্যার পদধ্বনি, পদক্ষেপ প্রয়োজন এখনই

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৮:৫১ এএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

উজানের ঢল ও উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন নদীর পানি আবারও বাড়ছে। এতে এ অঞ্চলে আবারও বন্যার আশঙ্কা করছেন অনেকে। এটা খুবই উদ্বেগজনক। এমনিতেই এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। নতুন করে আবার বন্যা দেখা দিলে সেটি হবে ‘‘মড়ার ওপর খাড়ার ঘাঁ’। এ অবস্থায় বন্যা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আগের বন্যায় ডুবে যাওয়া চরগুলো থেকে পানি নেমে যাওয়ায় সেখানে পুরোদমে চাষাবাদ শুরু করেছিল কৃষক। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে পানি বাড়ার কারণে আবারও ডুবেছে চরের জমি। আগস্ট মাসে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর অনেক কৃষক তাদের জেগে ওঠা জমিতে, ধান, মাসকলাই, শাক-সবজি আবাদ করেন। তবে গত কয়েকদিন ধরে যমুনা, ইছামতি, বাঙালি, ধরলা ও তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীতে পানি বেড়ে ফসল ডুবে গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এভাবে আর ৪/৫ দিন বাড়লে আবার আগস্টের মতোই বন্যা হবে।

এ বছর বন্যায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ বাড়িঘর প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁধ ও বাঁধের মতো বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোগুলো। বন্যার হাত থেকে বাঁচার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নদী-খাল দখল বন্ধ করতে হবে। ইতোপূর্বে ঢাকার চারপাশের নদী বাঁচানোর জন্য হাইকোর্টকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। কিন্তু দখল বন্ধ হচ্ছে না। একদিকে উচ্ছেদ অভিযান চলে অন্যদিকে নতুন করে দখল হয়। এই সাপলুডু খেলায় শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় দখলকারীরাই। অথচ নদী দখল বন্ধ করতে না পারলে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

পরিবেশ সচেতনতার এ যুগে নদীর অপমৃত্যু হবে আর সকলে চেয়ে চেয়ে দেখবে এটা হতে পারে না। দখলকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া নদী দখল বন্ধ করা যাবে না। নদী দখলে একটি দুষ্টচক্র অত্যন্ত ক্রিয়াশীল। এ চক্র ভাঙতে হবে। প্রশাসনের কোন গাফিলতি থাকলে সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা নদীমাতৃক বাংলাদেশকে তার আপন মহিমায় দেখতে চাই।

চলছে করোনা মহামারি কাল। তারওপর বন্যা এবার দীর্ঘমেয়াদী হচ্ছে। এজন্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিতে হবে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ। পানিবাহিত রোগ থেকে বাঁচার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বন্যা চলে যাওয়ার পর যে সমস্ত রোগব্যাধির প্রকোপ দেখা দেয় সেগুলোর ব্যাপারেও নিতে হবে আগাম প্রস্তুতি। বন্যার কারণে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ উছিলায় নিত্যপণ্যের দাম যেন না বাড়ে সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

এইচআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]