আর কত ভোগান্তি?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:০৫ এএম, ২৯ অক্টোবর ২০২০

চলছে প্রাণঘাতি করোনা মহামারি কাল। এরই মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক। এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কেনো বিকল্প নেই।

গত এক সপ্তাহে (২১ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর) চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৪৬ জন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ছয়জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি মাসে হাসপাতালে ভর্তি মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২১ জনে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। একই দিনের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় (২৬ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও নয়জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুজন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাতজন। এ নিয়ে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে বিজিবি সদর দফতরে হাসপাতালে তিনজন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে দুজন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২০ জন রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তির পর এটাই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার রেকর্ড। এছাড়া ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যথাক্রমে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪৫, ২৭, ২৫, ১০, ২০, ২৩, ৬৮ ও ৪৭ জন।

রাজধানীতে গত কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের আউটডোর কিংবা চিকিৎসকের চেম্বারে যাচ্ছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ সময়ে নতুন করে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি নগরবাসীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ডেঙ্গুতে আক্রান্তরা নাক ও দাঁত দিয়ে এবং কাশির সময় রক্তক্ষরণে ভুগে থাকে। এছাড়া আক্রান্তরা পিঠ, দাঁত, মাথা ও চোখের পেছনে ব্যথা অনুভব করে। ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আক্রান্তদের অবস্থার উন্নতি না হলে তাদের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসকদের কাছে যাওয়ার আগে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ খাওয়ারও দরকার নেই। চিকিৎসকরা এক্ষেত্রে সচেতনতার কথাও বলেন। বিশেষ করে রোগীকে বেশি মাত্রায় পানি, কিংবা শরবত খাওয়ানো যেতে পারে। এডিস মশার হাত থেকে বাঁচার জন্য দিনের বেলায়ও ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা উচিত।

বাসায় খোলা পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। এছাড়া ফুলের টবে জমে থাকা পানি, টায়ারের খোল, ফ্ল্যাটবাড়ির বারান্দা অথবা পানির চৌবাচ্চায় এই মশা নির্বিচারে বংশ বিস্তার করে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ১০২ ডিগ্রি ও এরচেয়ে বেশি জ্বর, সঙ্গেই তীব্র মাথা ও শরীর ব্যথা, বিশেষ করে হাড়ে, তীব্র পেট ব্যথা, স্কিন র্যাশ ইত্যাদির সঙ্গে বমিভাব ও ক্ষুদামন্দা থাকলে তার ডেঙ্গু হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। এ অবস্থায় অনেকে আতঙ্কিত হয়ে এন্টিবায়োটিকসহ নানান ধরনের ওষুধ খেয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় জ্বর প্রশমনে কেবল প্যারাসিটামল এবং প্রচুর পানি খেলেই চলে। তবে অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদের ক্ষেত্রে।

বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের প্রধান হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত এক দশকে প্রাণঘাতি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপে বলা হয়েছে। বিশ্ব জনসংখ্যার পাঁচ ভাগের দুই ভাগই অর্থাৎ ২৫০ কোটি লোক ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ৭০ ভাগই এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে বাস করে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হু, সতর্ক করে দিয়েছে, এখনই সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এ ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে হলে মশক নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আরো সক্রিয় হতে হবে যাতে এডিস মশার সংখ্যা বৃদ্ধি না পায়। এ লক্ষ্যে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। মানুষজনকে সচেতন করে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

এইচআর/পিআর

ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে হলে মশক নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আরো সক্রিয় হতে হবে যাতে এডিস মশার সংখ্যা বৃদ্ধি না পায়। এ লক্ষ্যে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। মানুষজনকে সচেতন করে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]