সংকটের মধ্যেই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি!


প্রকাশিত: ০৬:৪৫ এএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬

শীতকালে এমনিতেই গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে তারওপর চলছে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য তোড়জোড়। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা  আসছে শিগগিরই। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ বিষয়ে হিসাব চূড়ান্ত করেছে। সে অনুযায়ী আবাসিক খাতে ২ চুলার জন্য ১ হাজার এবং ১ চুলার জন্য ৮০০ টাকা দিতে হতে পারে। আর যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির দাম হতে পারে প্রতি ঘনমিটার ৪০ টাকা। বর্তমানে আবাসিকে ২ চুলার জন্য ৬৫০ ও ১ চুলার জন্য ৬০০ টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, শিল্প, বাণিজ্যিক, চা-বাগান প্রভৃতি সব ক্ষেত্রেই গ্যাসের দাম বাড়ছে।

আমরা বরাবরাই দেখেছি ভর্তুকির কথা বলে মূল্যবৃদ্ধির শর্টকাট পথে সরকার এগোয়। দুর্মূল্যের বাজারে এমনিতেই জনসাধারণের নাভিশ্বাস উঠেছে। কিছুদিন আগেই বাড়ানো হয়েছে পানির দাম। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। জানুয়ারি এলে বাসা ভাড়াও বেড়ে যায়। এই অবস্থার মধ্যে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হলে তা হবে তাদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। অধিকাংশ যানবাহন এবং ট্রাক, লরি এখন গ্যাসচালিত। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে যাত্রীভাড়া বাড়বে। বাড়বে পণ্য-দ্রব্য বহনের খরচও। এর ফলে নিত্যপণ্যের বাজার আরও অস্থির হবে।  এই বৃদ্ধির কুফল মানুষজনকে নানা ভাবে ভোগাবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ও শুল্ক সংগ্রহের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। অথচ এ খাতের উদ্ধৃত্ত অর্থ দিয়েই তা করা সম্ভব। এছাড়া  ভর্তুকি কমানোর বিষয়টিও অনেক সময় সামনে নিয়ে আসা হয়। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ভর্তুকি কমানোর জন্য মূল্যবৃদ্ধির শর্টকাট রাস্তায় চলে। অথচ দুর্নীতি কমানো, সিস্টেমলস বন্ধ করাসহ নানাবিধ উপায়ে আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সেটি করা গেলে জনসাধারণকে আর বাড়তি পয়সা গুণতে হতো না। খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে দাম বাড়ালে শেষ পর্যন্ত এর সুফল পাওয়া যায় না। ভোক্তা অধিকারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলে মূল্যবৃদ্ধির এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের দিকে যেতে হয় না। এখনও সময় আছে। আমরা আশা করবো জনসাধারণের সার্বিক দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তারও আগে চলমান গ্যাস সংকট দূর করতে হবে। জনহিতকর সরকারের এটিই দায়িত্ব।
 
এইচআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]