ত্রাণ কার্যক্রমে ডোনেশন দিন তবে সাবধানতাও জরুরি

মো. আনোয়ার হোসেন শামীম
মো. আনোয়ার হোসেন শামীম মো. আনোয়ার হোসেন শামীম
প্রকাশিত: ১২:২৫ পিএম, ২১ জুন ২০২২

সিলেটের বানভাসি মানুষকে উদ্ধার ও তাদের নিরাপদ খাদ্য, ওষুধ ইত্যাদি সরবরাহে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি অনেক স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তি-সংস্থাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। আপনার-আমার পাঠানো ডোনেশনই এই স্বেচ্ছাসেবীদের মানবিক কর্মযজ্ঞের মূল চালিকাশক্তি।

আমরা যত বেশি আর্থিক কন্ট্রিবিউট করব, মানবতার সেবায় তাদের কাজও তত বেশি বেগবান হবে। আমি বানভাসি মানুষদের এই চরম ক্রান্তিকালে দেশবাসীকে আরো অধিক পরিসরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো ছোট্ট কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আপনাদের সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

আমাদের দেশে যখনই কোনো মানবিক বিপর্যয় আসে, প্রকৃত মানবদরদী ব্যক্তিদের পাশাপাশি কিছু সুবিধাবাদী চরিত্রের মানুষের আবির্ভাবও কিন্তু ঘটে। অন্যের ঘর পোড়া আগুনে আলু সেদ্ধ খাওয়ার মতো করে সঙ্কটকে পুঁজি করে নিজের স্বার্থ চেষ্টায় লিপ্ত থাকেন তারা। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতিতেও এমন দুয়েকটি ঘটনার কথা আমার কানে এসেছে।

কেউ কেউ আছেন অন্য সংস্থার ছবি/ভিডিও নিজেদের পোস্টে শেয়ার করে ডোনেশন চান। কেউ আছেন বিপুল ডোনেশন সংগ্রহ করে শুধু অল্প কিছু টাকার ত্রাণ দিয়ে সেগুলো নানা এঙ্গেলে ছবি/ভিডিও করে রাখেন। তারপর অনলাইনে বারবার সেই একই ছবি/ভিডিও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দিয়ে ত্রাণকাজের কথা বলে আপনাকে বোকা বানিয়ে আপনার কষ্টের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।

মনে রাখবেন, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারে নিজেদের বিকাশ, নগদ, রকেট নম্বর দিয়ে যারা বন্যার্ত মানুষের সহায়তার আহ্বান সম্বলিত পোস্ট/প্রচারপত্র/বিজ্ঞাপন প্রচার করছেন, তাদের মধ্যে সুপরিচিত সংস্থার পাশাপাশি আছে অনেক ব্যক্তিপর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী ও বিভিন্ন নামের নতুন/অপরিচিত অনেক সংস্থাও।

একজন ডোনেশন দাতার সম্ভাব্য উদ্বেগের জায়গাটিও ঠিক এখানেই। বানভাসি মানুষের অসহায়ত্ব ও দেশবাসীর আবেগকে পুঁজি করে স্বেচ্ছাসেবা ও ত্রাণ তৎপরতার আড়ালে পাতা থাকতে পারে প্রতারণার সম্ভাব্য ফাঁদ। প্রতারকের দল জানেন, জাল পেতে বসে থাকলে কোনো না কোনো মাছ তাতে ধরা দেবেই। ব্যক্তিপর্যায় ও ছোট সংস্থা তো বটেই, আমাদের দেশে অনেক বড় ডাকাবুকো, সুপরিচিত সংস্থার প্রতারণায় যুক্ত হবার ঘটনা এখনো কিন্তু তরতাজা। অতএব, সতর্কতার বিকল্প নেই।

একজন মানুষ হিসেবে আপনি দুর্গত মানুষের পাশে নিশ্চয়ই দাঁড়াবেন। কিন্তু প্লিজ, ফান্ড সংগ্রহকারীদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অন্যদের রিভিউ না নিয়ে, শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে শুধু ত্রাণ দেওয়ার কয়েকটা ছবি/ভিডিও/লাইভ দেখে কারো হাতে আপনার কষ্টের টাকা তুলে দেবেন না। কোনো ব্যক্তি ও ব্যক্তিপর্যায়ের সংস্থার হাতে ডোনেশন তুলে দেওয়ার আগে শুধু এই প্রশ্নটার জবাব খুঁজে নিবেন যে, আপনার কষ্টার্জিত অর্থ অভুক্ত মানুষগুলোর মুখ পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে তো? যে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আপনি দুর্গত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন, আপনার প্রদত্ত সহায়তা তাদের কাছে না পৌঁছে কোনো সুবিধাবাদীর পকেট যেন স্ফিত না করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করাও কিন্তু সেই দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

আমি মনে করি কারো পক্ষে যদি সশরীর অকুস্থলে উপস্থিত হয়ে বিপদগ্রস্তদের হাতে সাহায্য তুলে দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সবচেয়ে ভাল হয় ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত বা বিশ্বস্ত কোন ব্যক্তি/সংস্থার কাছে ডোনেশন প্রদান করা। আর এমন বিশ্বস্ত/পরিচিত কেউ যদি না থাকলে তারা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের তহবিলেও দুস্থদের জন্য সাহায্য পাঠাতে পারেন। সিলেট/সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে ঢুকলে সহজেই সেখানে সাহায্য পাঠানোর উপায় খুঁজে পাওয়া যাবে।

সবশেষে আবারও বলব- এই মহা নিদানকালে সিলেটবাসীর পাশে অবশ্যই, অতি অবশ্যই দাঁড়ান। কিন্তু পাশাপাশি সতর্ক থাকবেন, কোনোভাবে, কোনোভাবেই যেন ছবি, ভিডিও, লাইভ প্রচারকারী অপরিচিত/অবিশ্বস্ত অনলাইন বিজ্ঞাপনদাতাদের ফাঁদে পড়ে আপনার কষ্টার্জিত টাকা প্রতারকের ভোগবিলাসের খরচে পরিণত না হয়।

লেখক: বিসিএস (পুলিশ), সহকারী পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম।

এইচআর/জিকেএস

মহা নিদানকালে সিলেটবাসীর পাশে অবশ্যই, অতি অবশ্যই দাঁড়ান। কিন্তু পাশাপাশি সতর্ক থাকবেন, কোনোভাবে, কোনোভাবেই যেন ছবি, ভিডিও, লাইভ প্রচারকারী অপরিচিত/অবিশ্বস্ত অনলাইন বিজ্ঞাপনদাতাদের ফাঁদে পড়ে আপনার কষ্টার্জিত টাকা প্রতারকের ভোগবিলাসের খরচে পরিণত না হয়।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]