শীতের শহরে রোদের গল্প
টানা কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহে ঢাকার জীবন যেন গুটিয়ে গিয়েছিল নিজের ভেতর। কনকনে ঠান্ডায় সকালের রাস্তাঘাট ছিল ফাঁকা, রোদহীন আকাশে দিন আর রাতের পার্থক্যও অনেক সময় বোঝা যাচ্ছিল না। মোটা কাপড়ের আড়ালে চাপা পড়ে ছিল মানুষের স্বাভাবিক গতিশীলতা। তবে সেই স্থবিরতার দেয়াল ভেঙে গত দুদিন ধরে ঢাকার আকাশে ফিরেছে বহু প্রতীক্ষিত রোদ। ছবি: মাহবুব আলম
-
রোদের দেখা মিলতেই বদলে যেতে শুরু করেছে শহরের দৃশ্যপট।
-
সকাল গড়াতেই ছাদে, বারান্দায়, খোলা জায়গায় মানুষকে দেখা যাচ্ছে শরীর আড়মোড়া ভেঙে রোদ পোহাতে।
-
দীর্ঘদিনের শীতল জড়তা কাটিয়ে যেন শরীর নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করছে। রোদের উষ্ণ ছোঁয়ায় অনেকের মুখেই ফুটে উঠছে স্বস্তির হাসি; এ যেন শুধু আলো নয়, এক ধরনের মানসিক প্রশান্তিও।
-
হাতিরঝিল এলাকায় রোদের এই প্রত্যাবর্তন আরও দৃশ্যমান। লেকের ধারে বসে থাকা মানুষ, হাঁটতে বের হওয়া বয়স্করা কিংবা সকালের নরম রোদে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীরা সবাই যেন এক অদৃশ্য আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন। শীতের কুয়াশা সরে গিয়ে পরিষ্কার আকাশে রোদের ঝিলিক হাতিরঝিলকে এনে দিয়েছে আলাদা এক সৌন্দর্য।
-
বাড়ির ছাদে কিংবা গলির পাশে দড়িতে ঝোলানো ভেজা কাপড় শুকাতে দেখা যাচ্ছে। কয়েকদিন ধরে জমে থাকা কাপড় ধোয়ার কাজ যেন অবশেষে পূর্ণতা পাচ্ছে।
-
রোদের উপস্থিতি এখানে শুধু প্রকৃতির স্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং নগরজীবনের ছোট ছোট প্রয়োজন মেটানোর এক বড় ভরসা।
-
এই রোদ যেন শীতের ক্লান্ত শহরকে ধীরে ধীরে ফিরিয়ে নিচ্ছে স্বাভাবিক ছন্দে। ঠান্ডায় জমে থাকা জীবন আবার গলে যাচ্ছে আলোয়। ঢাকার মানুষ জানে এই রোদ ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, আবার কুয়াশা নামতে পারে। তবু এই মুহূর্তের উষ্ণতা, এই আলো, এই স্বস্তিই এখন তাদের কাছে বড় প্রাপ্তি।