৩০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ সাঈদ আল নোমানের পরিবারের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা ও আয়কর নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার ও তার পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩০ কোটি টাকারও বেশি। এর একটি বড় অংশ নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত এবং অস্থাবর সম্পদ।
নগদ ও ব্যাংকে বিপুল অর্থ
হলফনামা অনুযায়ী, সাঈদ আল নোমানের হাতে নগদ রয়েছে ৮ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৫৭৬ টাকা। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১০ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৮১০ টাকা। অর্থাৎ কেবল নগদ ও ব্যাংক আমানত মিলিয়েই তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
এছাড়া কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্র ও আমানত রয়েছে ৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। বিমা ও ট্রাস্টে তার বিনিয়োগের মূল্য দেখানো হয়েছে ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৮ টাকা।
যানবাহন, গহনা ও অন্যান্য সম্পদ
হলফনামায় দেখা যায়, তার মালিকানাধীন যানবাহনের অধিগ্রহণকালের মূল্য ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সোনা ও অন্যান্য ধাতুর গয়নার মূল্য মাত্র ৩০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার এবং আসবাবপত্র ১ লাখ ৫০০ টাকার।
এছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি ও বিদেশি রেমিট্যান্সের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৯২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫২ টাকা। তবে বিদেশে তার কোনো অস্থাবর সম্পদের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ২৩ কোটির বেশি
সাঈদ আল নোমানের অস্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ২২ কোটি ৯৪ লাখ ২৫ হাজার ১৬ টাকা। বর্তমান আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ৯৩ লাখ ৯৫ হাজার ১৬ টাকা। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা বেড়েছে।
পেশা ও আয়ের উৎস
হলফনামায় সাঈদ আল নোমানের পেশা উল্লেখ করা হয়েছে ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে তিনি অতীতে চাকরি করতেন বলেও জানিয়েছেন। তার আয়ের উৎস বিশ্লেষণে দেখা যায়-
• বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক খাত থেকে আয়: ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা।
• শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয়: ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫০ টাকা।
• চাকরি থেকে আয়: ৯৬ লাখ টাকা।
• সব মিলিয়ে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯৭ লাখ ৮১ হাজার ৩৫০ টাকা।
স্ত্রীদের সম্পদ ও আয়
হলফনামা অনুযায়ী, সাঈদ আল নোমানের দুই স্ত্রীই পেশায় ব্যবসায়ী। তাদের হাতে নগদ রয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৯ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৯ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৯ টাকা। বীমা ও ট্রাস্টের মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা।
স্ত্রীদের মালিকানাধীন যানবাহনের অধিগ্রহণকালের মূল্য ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকারের মূল্য ৫ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ৩ লাখ টাকা। এছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি ও বিদেশি রেমিট্যান্স রয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ২৬ হাজার ২২৮ টাকা।
স্ত্রীদের অস্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৭৬ টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে কোন স্ত্রীর কত সম্পদ, তা পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
জমি ও স্থাবর সম্পদের হিসাব
নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাঈদ আল নোমানের নামে রয়েছে ১৬ দশমিক ৬৩ ডেসিমেল কৃষিজমি, যার অর্জনকালীন মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৪০০ টাকা। এছাড়া তার নামে রয়েছে ৬০ একর অকৃষিজমি, যার অর্জনকালীন মূল্য ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার নির্ভরশীলদের নামে ২৪ দশমিক ৩৭ ডেসিমেল অকৃষিজমি রয়েছে, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের অধিগ্রহণকালের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩২ টাকা।
সব মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য ৮ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ৯৩২ টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১০ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ৯৩২ টাকা।
আয়কর ও সম্পদের সারসংক্ষেপ
আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, সাঈদ আল নোমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩০ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪৮ টাকা। তিনি আয়কর দিয়েছেন ৩২ লাখ ১৪ হাজার ২৯ টাকা।
এছাড়া তার দুই স্ত্রীর মধ্যে একজনের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং অপরজনের আয় ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ যথাক্রমে ২ কোটি ২০ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫৮ টাকা এবং ১ কোটি ১৫ লাখ ৮২ হাজার ১৮ টাকা। তারা আয়কর দিয়েছেন যথাক্রমে ৫ হাজার ৭৫০ টাকা ও ২৮ হাজার টাকা।
হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাঈদ আল নোমানের সম্পদের বড় অংশ নগদ অর্থ ও ব্যাংক আমানতনির্ভর। পাশাপাশি জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য।
এমআরএএইচ/ইএ/এএসএম