সালাহউদ্দিন আহমদ
কোথাও কোথাও এখনই ভোটিং শুরু হয়ে গেছে, ইসিকে ব্যাখ্যা দিতে হবে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, পোস্টাল ব্যালট যেগুলো প্রবাসীদের জন্য পাঠানো হয়েছে, আমরা বলেছি আগের মতোই উদ্বেগ প্রকাশ করেছি-এখানে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। কোথাও কোথাও এখনই ভোটিং শুরু হয়ে গেছে যেটা ২২ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা। যারা এই পোস্টাল ব্যালট প্রণয়নের কাজে ছিল এবং পাঠানোর কাজে ছিল বা এগুলোর বিষয়ে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল, তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। ইলেকশন কমিশনকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন যেসব পোস্টাল ব্যালটগুলো আপনারা দেখছেন বিভিন্নভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও আকারে আসছে-একেকটা বাসায় ২০০-৩০০ করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও কোথাও জব্দ করা হচ্ছে, কোথাও কোথাও এখনই ভোটিং শুরু হয়ে গেছে যেটা ২২ তারিখে হওয়ার কথা এবং কোথাও কোথাও বলছে একজনের নম্বর দিয়ে আরেকজনের পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করছে-এভাবে অনেক কিছু অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ দল এই কাজগুলো করছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এবং কিছু আইনি বিষয়ে, আচরণবিধির কিছু বিষয়ে কথা বলতে আসছিলাম। কয়েকদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে-পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা আজকে যে সমস্ত বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা তাদের বুঝিয়েছি-কিছু কিছু পয়েন্টে আর আচরণবিধির কিছু পয়েন্টে এবং দু-একটা বিষয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এগুলো তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমার মনে হয় এর বেশি কিছু বলার নেই। তারা এগুলো বিবেচনা করবেন কমিশনের বৈঠক করে, সেটুকু আশ্বস্ত করেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, যেহেতু বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটদানের এই নিয়মটা এই প্রথম এক্সারসাইজ হচ্ছে, এখানে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারত, তবে যে ভুলভ্রান্তিটা হচ্ছে-এখানে আমরা ভিকটিমাইজ হচ্ছি, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে হয়ে কিছু কিছু এখানে কাজ হয়েছে বলে আমাদের ধারণা এবং সেটি প্রকাশিত হচ্ছে, আসলে ধারণা নয় সেটা প্রমাণিত হচ্ছে।
আচরণবিধি ও ভোটার স্লিপ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আচরণবিধির বিষয়ে আমরা একটা বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে, ভোটার স্লিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে-আমরা যেহেতু চাই অধিকাংশ ভোটার ভোটে অংশগ্রহণ করুক দেশে, সবাই চায়। তো সেই ক্ষেত্রে তারা যেন তাদের ভোটের নম্বরটা এবং প্রার্থীর নাম, প্রতীক ইত্যাদি পায় ভোটার স্লিপের মাধ্যমে সহজ হয়। অথচ সেটা না করে তারা ভোটার স্লিপের মধ্যে বলেছে কোনো প্রার্থীর নাম দেওয়া যাবে না, মার্কা দেওয়া যাবে না এবং প্রার্থীর ছবি দেওয়া যাবে না। এগুলো আমরা বলছি পুনর্বিবেচনা করা দরকার।
তারেক রহমানের সফর ও আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি আগে, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে আমাদের চেয়ারম্যান সম্মান দেখিয়ে তার সফর স্থগিত করেছেন। সেই সফরটা রাজনৈতিক সফর ছিল না, নির্বাচনি প্রচারণার উদ্দেশ্যও ছিল না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ, তাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো, কবর জিয়ারত করার উদ্দেশ্যে ছিল। আমরা আচরণবিধির কারণে নয়, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সেটা আমরা স্থগিত করেছি। এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বিভিন্নভাবে যে সমস্ত বক্তব্য ও বিবৃতি দিচ্ছে এবং সেটা ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে, তাতে করে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারেও আমি দেখছি যে নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। তো আমরা আশা করব তারা এটা অ্যাড্রেস করবেন।
তিনি আরও বলেন, পোস্টাল ব্যালট দেশের অভ্যন্তরে সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হবে। সেজন্য আমরা বলেছি যে সমস্ত নির্বাচনি এলাকায় যে কয়জন প্রার্থী থাকে তাদেরই তো মার্কা দিয়ে নাম দিয়ে ব্যালট হয়। সেই একই ব্যালট যেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ ব্যাপারে আমরা সুস্পষ্ট আমাদের প্রস্তাব দিয়েছি। কারণ সমস্ত মার্কাগুলো দিয়ে তো পোস্টাল ব্যালট সব কনস্টিটিউয়েন্সিতে পাঠানোর প্রয়োজন নেই এবং সেটা দেশের মধ্যে সম্ভবও নয়।
এমওএস/এমআরএম/জেআইএম