আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের তৃণমূলে অসন্তোষ

রায়হান আহমেদ
রায়হান আহমেদ রায়হান আহমেদ , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৩ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর লোগো

জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর ‘১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য’ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ইসলামী আন্দোলন ছাড়া ১০ দলের আসন সমঝোতাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে এক ধরনের ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে। জোটের একাধিক আসনে জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত হলেও সমঝোতার স্বার্থে প্রার্থী প্রত্যাহার নিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোমালিন্য নজরে আসছে।

জামায়াতে ইসলামীর দাবি, বৃহত্তর ঐক্য ধরে রাখতে এবং এক ভোট বাক্স নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা এসব আসনে ছাড় দিয়েছে। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, জোট টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে জামায়াত।

তবে দলের সেই সিদ্ধান্ত সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

১০ দলীয় জোট সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী ২১৫টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩টি, খেলাফত মজলিস ১৩টি, এলডিপি সাতটি, এবি পার্টি চারটি নেজামে ইসলাম পার্টি তিনটি, বিডিপি দুটি ও খেলাফত আন্দোলন এক আসনে নির্বাচন করবে।

তবে এর মধ্যে জামায়াতের ছেড়ে দেওয়া বেশ কিছু আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:

১৭৯ আসনে ভোটে লড়বে জামায়াত 

হোঁচট খেলো জামায়াত 

জামায়াত ও শিবিরের সমর্থকরা প্রকাশ্যেই প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। বিশেষ করে গত ১৫ জানুয়ারি ১০ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত ও ছাত্রশিবির সমর্থকদের মধ্যে নানা মন্তব্য ও সমালোচনা চলছে।

মৌলভীবাজার-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে গ্রামের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন এলাকাবাসী ও কর্মী-সমর্থকরা। তিনি যেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারেন এজন্য মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজনগর উপজেলার দত্তগ্রামে নিজ বাড়িতে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের ছেলে ডা. তানভীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় এলাকাবাসী ও কর্মীদের নিয়ে কাজ করছেন। এজন্য তিনি যাতে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারেন এজন্য সকাল থেকে বাড়িতে সাধারণ মানুষ এসে বাবাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। তবে এখানে জামায়াতের কোনো নেতা নেই। সবাই আমাদের এলাকাবাসী ও আমার বাবার কর্মী।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড়ব ছর ধরে নির্বাচন সামনে রেখে মাঠেঘাটে ঘুরেছেন। এসময় সাধারণ মানুষ ব্যাপক সমর্থন করেন। বাবা যাতে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারেন এজন্য বাড়িতে সবাই অবরোধ করছেন।

অসন্তোষ দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনেও। ওই আসনের জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বলছেন, জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হোসেন পাটোয়ারী মাঠপর্যায়ে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সমঝোতার মাধ্যমে এনসিপি প্রার্থী মাহবুব আলমকে দেওয়া হচ্ছে, তাকে এলাকায় অনেকেই চেনেন না।

আরও পড়ুন:

মনোনয়ন প্রত্যাহার না করতে জামায়াত প্রার্থীকে অবরোধ সমর্থকদের 

লক্ষ্মীপুর-১ আসনে রামগঞ্জ উপজেলার ১ নং কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের আমির সারাফাত হোসেন শাহিদ জাগো নিউজকে বলেন, এ আসনে এনসিপির ওই প্রার্থীকে কেউ চেনে না। আমরা এক বছর থেকে এই আসনটিতে ঘাম ঝরিয়েছি। এখন ১০ দলীয় জোট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা মনে করি এটা বিবেচনা করা দরকার। সেজন্য এই আসনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বসছে, আমিরে জামায়াতও এটা নিয়ে বসছেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, এসব অসন্তোষ সাময়িক। তারা আশা করছেন, নির্বাচনের সময় দলীয় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং নেতাকর্মীরা বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের এক সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করেছে। জোট চূড়ান্ত হওয়ার আগে থেকে তাদের মেসেজ দেওয়া হয়েছে দেশের স্বার্থে আসন সমঝোতা করা হতে পারে, সেজন্য যে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহার নির্দেশনা মানতে হবে।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী শৃঙ্খল সংগঠন। কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছে, কিছুটা অভিমান থাকবে। আশা করছি কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা হবে না।

এই বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের জাগো নিউজকে বলেন, আমরা চেয়েছি জুলাই অভ্যুথানের শক্তিদের সবাইকে একসঙ্গে রাখতে। এটা করতে গিয়ে এমন জায়গায় ত্যাগ শিকার করতে হয়েছে যেটা তারা মেনে নিতে পারছে না। আমাদের নেতাকর্মীরা নিজেদের টাকা খরচ করছে, শ্রম দিয়েছে- তাই তাদের কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক। আবার তার মানে এই না যে, তারা দলের সিদ্ধান্ত মানবে না। আশা করি, বৃহত্তর স্বার্থে দলের নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্ত মেনে চলবে।

আরএএস/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।