নির্বাচন সামনে রেখে ক্রীড়া উন্নয়নে যে পরিকল্পনা বিএনপির
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনি প্রচারণায় ক্রীড়া উন্নয়নে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা সংবলিত লিফলেট ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা।
বিএনপির ক্রীড়া উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রধান দিকগুলো হলো—
১. ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি
পেশাদারিত্ব: খেলাধুলাকে কেবল বিনোদন হিসেবে নয়, বরং একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রীড়া শিক্ষা: চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে পাঠ্যসূচিতে বাধ্যতামূলক করার এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
২. অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন
স্পোর্টস ভিলেজ: দেশের ৬৪টি জেলায় আধুনিক ইনডোর সুবিধাসহ ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণ করা হবে।
বিকেএসপি সম্প্রসারণ: প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপির (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শাখা স্থাপন করা হবে, যাতে তৃণমূল থেকে প্রতিভা উঠে আসতে পারে।
মাঠ পুনরুদ্ধার: দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠগুলো উদ্ধার করে সেগুলোকে খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
৩. তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির আওতায় দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও বৃত্তির ব্যবস্থা।
উপজেলা পর্যায়ে একাডেমি: প্রতিটি উপজেলায় ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, শুটিং, আর্চারিসহ বিভিন্ন খেলার জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা একাডেমি গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রীড়া কর্মকর্তা: ক্রীড়া কার্যক্রমকে গতিশীল করতে প্রতিটি উপজেলায় ‘ক্রীড়া কর্মকর্তা’ নিয়োগ দেওয়া হবে।
৪. আধুনিকায়ন ও বিশেষ ব্যবস্থা
বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ: আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশি কোচ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
নারী ক্রীড়া উন্নয়ন: নারী অ্যাথলেটদের জন্য স্বতন্ত্র ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ক্রীড়া স্থাপনা তৈরি।
চাকরি কোটা: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়দের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ কোটা প্রবর্তনের পরিকল্পনা।
৫. অর্থনীতিতে ক্রীড়ার অবদান
বিএনপি খেলাধুলাকে একটি বড় ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের লক্ষ্য হলো স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনা, টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং প্রতিভা তৈরির মাধ্যমে ক্রীড়া খাতকে জিডিপিতে অবদান রাখার মতো স্তরে নিয়ে যাওয়া।
এমইউ/এমএমকে