ঢাকা-১৮
বিএনপির জাহাঙ্গীর এগিয়ে, ‘পথের কাঁটা’ শাপলা কলি
‘রনি ভাই হাসপাতালে। আরিফ ভাই সেভাবে প্রচারণায় নেই। এ আসনে প্রচারণায় এগিয়ে বিএনপির জাহাঙ্গীর।’- কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন ঢাকা- ১৮ আসনের বাসিন্দা কোটা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক শিক্ষার্থী। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকার একটি চায়ের দোকানে এভাবেই অনুভূতি প্রকাশ করছিলেন নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রার্থীরা। দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। কর্মী-সমর্থকরাও দুয়ারে দুয়ারে ঘিয়ে ভোট চাইছেন। করছেন সভা-সমাবেশ। রাজধানীর উত্তরা, বিমানন্দর, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান, মোল্লারটেক ও তুরাগ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৮ আসনও তার ব্যতিক্রম নয়।
এই আসনে এতদিন ছিলেন ১০ জন প্রার্থী। তবে গতকাল রোববার রাতে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এই আসনে জয়ের দৌড়ে রয়েছেন ৯ প্রার্থী। এদের মধ্যে প্রচারণায় সরব রয়েছেন চার প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও শাপলা কলি প্রতীকে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির আরিফুল ইসলামের প্রচারণা সবচেয়ে বেশি। এরপরই প্রচারণায় সরব রয়েছেন হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল হোসেন ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মো. আনোয়ার হোসেন। এই আসনের বিভিন্ন স্থানে রেল ইঞ্জিন প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার ওরফে মহিউদ্দিন রনির ব্যানার ফেস্টুনও চোখে পড়েছে।
জাগো নিউজের এই প্রতিবেদক দৈবচয়নের ভিত্তিতে ঢাকা-১৮ আসনের বিভিন্ন এলাকায় নানা শ্রেণী-পেশার ১০ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নিকুঞ্জ, উত্তরার জসিম উদ্দিন, উত্তরার ৯ নং সেক্টর, দক্ষিণখান, উত্তরখান, আজমপুর ও আশকোনা এলাকায় কথা হলে ১০ জনের মধ্যে ৮ জনই বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে এগিয়ে রেখেছেন। দুজন বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত এনসিপির প্রার্থীর পক্ষে ‘তলে তলে’ ভালো প্রচারণা চলছে। আরিফুল ইসলামের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। দৈবচয়নে কথা বলা ১০ জনের মধ্যে ওই ৮ জনই শুধু নয়, খোদ অন্য দলের প্রকাশ্য সমর্থকরাও বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে এগিয়ে রাখছেন।
তেমনই একজন আজমপুর এলাকার দেওয়ানপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও হাতপাখার সমর্থক পঞ্চাশোর্ধ্ব ফরিদ দেওয়ান। পূর্বপুরষ থেকেই ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা তিনি। জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তিনি হাতপাখার গেঞ্জি পরিহিত ছিলেন। জাগো নিউজকে ফরিদ দেওয়ান বলেন, আমরা আদিপুরুষ থেকে এখানকার বাসিন্দা। হাতপাখার জন্যে ভালো কাজ করছি। এখানে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো মারামারি নেই।
কার প্রচারণা বেশি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে ধানের শীষ ও এনসিপির প্রচারণা বেশি। আমাদের প্রচারণা কম। কে এগিয়ে আছেন এমনটি জানতে চাইলে দেওয়ানপাড়ার এই প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, এনসিপি তো নতুন দল। জাহাঙ্গীর এগিয়ে। আবার হরিণের প্রার্থী বিএনপির স্বতন্ত্র। তবে উনি তেমন ভোট পাবেন না। জাহাঙ্গীর আগে থেকেই এলাকায় সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে গেছেন। তিনি নানাভাবে এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন। তার সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি।
দৈব চয়নে কথা বলা ১০ ব্যক্তির অভিমত
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিকুঞ্জ-২ এলাকায় কথা হয় তরুণ এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তিনি নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, রনি ভাই হাসপাতালে। আরিফ ভাই সেভাবে প্রচারণায় নেই। এ আসনে প্রচারণায় এগিয়ে বিএনপির জাহাঙ্গীর। এখন পর্যন্ত আরিফ ভাই এ এলাকায় আসেননি। মাত্র দুই তিন আগে এ এলাকায় তার ব্যানার ফেস্টুন টানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের মূল্য লক্ষ্য জুলাই সনদ। হ্যাঁ ভোট যেন পাস করে এটিই আমাদের মূল চাওয়া। সাধারণ জুলাই যোদ্ধা হিসেবে কে কোন আসনে জিতলেন এটি আমাদের তেমন প্রায়োরেটি নয়, তবে হ্যাঁ ভোট পাস করতে হবে এটিই আমাদের প্রধান টার্গেট।
উত্তরার জসিম উদ্দিন এলাকার একটি বাড়ির দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার আফছার উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, এখানে বিএনপির প্রচার-প্রচারণা বেশি। ধানের শীষের লোকজনই বেশি দেখা যাচ্ছে। ধানের শীষের পরে শাপলা কলি ও হাতপাখার কিছু প্রচারণা আছে। মনে হচ্ছে এ এলাকায় বিএনপিই জিতবে।
উত্তরা মডেল টাউন এলাকায় ৭ বছর ধরে রিকশা চালান নূর আলম। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, এখানে বিএনপির প্রচারণাই বেশি। অন্য প্রার্থীদের প্রচারণা নেই। দেখা যাচ্ছে বিএনপিই এগিয়ে।
উত্তরার ৯ নং সেক্টরের বাসিন্দা ও একই এলাকার ভোটার আলম বলেন, রেলের পূর্ব পাশে যারা জিতবে তারাই আসন পাবে। কারণ পূর্ব পাশেই মূল ভোটার। ওখানকার বাসিন্দারাই এই আসনের প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে।
এই আসনে কে এগিয়ে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখানে জামায়াত সমর্থিত এনসিপির প্রার্থীকে কেউ চেনে না। বিপরীতে বিএনপির জাহাঙ্গীরকে চেনে না এমন কেউ নেই। আর ব্যক্তিগতভাবে ওনার কোনো ব্যাড রেকর্ড নেই। উনি এই আসনে এগিয়ে আছেন।

একইভাবে দক্ষিণখানের বাসিন্দা শহীদ জাগো নিউজকে বলেন, ধানের শীষ ও এনসিপির প্রচারণা আছে। তবে ধানের শীষ এগিয়ে।
আজমপুর এলাকার মুদি দোকানি রেজাউল একই এলাকার ভোটার। রোববার দুপুরে কথা হলে রেজাউল জাগো নিউজকে বলেন, এখানে বিএনপির প্রচারণাই বেশি। বিএনপির সমর্থকও বেশি। তবে বিএনপি-এনসিপির ঠেলাঠেলিতে স্বতন্ত্র প্রতীকের হরিণ নাকি পাস করে যায়!
তিনি বলেন, ভোটের মাঠ এবার গরম নয়। আগে ভোট ভোটের মতো মনে হতো। এখন ভোট মনে হচ্ছে না।
উত্তরখানের শাহ কবির মাজার চৌরাস্তা এলাকায় কথা হলে স্থানীয় ভোটার মঈনুদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, জাহাঙ্গীরের প্রচার প্রচারণা বেশি। জাহাঙ্গীর স্থানীয়। তিনিই জেতার সম্ভাবনা বেশি। একইভাবে দক্ষিণখানের নগরবাড়ি এলাকায় কথা হলে জাকির নামের এক ভোটার বলেন, জাহাঙ্গীর এগিয়ে। তার সমর্থক বেশি। তিনি পুরাতন লোক। তিনিই জেতার সম্ভাবনা বেশি।

তবে ভিন্ন মত দক্ষিণখানের জয়নাল মার্কেটের মুদি দোকানি হাসানের। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, মুখে সবাই ধানের শীষ বলছে। তবে অনেকেই জামায়াতকে ভোট দেবে। জামায়াতের লোকজন নড়াচড়া করছে না। তলে তলে প্রচারণা আছে।
প্রায় একই রকম কথা বললেন আশকোনা বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, সবার প্রচারণাই ভালো। জামায়াত ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইছে। জামায়াত জেতার সম্ভাবনা বেশি।
ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনে আলোচিত যতো ঘটনা
ঢাকা-১৮ আসনে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের ওপর স্থানীয় ৪৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি দিদার মোল্লার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ ওঠে। গেল ২৬ জানুয়ারি সকালে খিলক্ষেত থানার ডুমনি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ৯ জন আহত হন বলে দাবি করেন এনসিপির সমর্থকরা। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে এনসিপির ব্যানার ফেস্টুন ছিড়ে ফেলার অভিযোগও আনা হয় দলটির পক্ষ থেকে। তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেন বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর।
গেল ৭ জানুয়ারি এই আসনের একই স্থানের একটি সড়কের দুই পাশ দিয়ে বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও এনসিপির আরিফুল ইসলাম আদিবের মিছিল যাচ্ছিল। এ সময় বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর এগিয়ে গিয়ে এনসিপির প্রার্থী আরিফুল ইসলামকে বুকে টেনে নেন।

এদিকে, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি। তাকে দেখতে হাসপাতালে যান একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এসব ঘটনাই এ আসনে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
যা বলছেন কর্মীরা
নিকুঞ্জ এলাকায় কথা হয় খিলক্ষেত থানা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবুর সঙ্গে। আসনটিতে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পাড়া-মহল্লায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওয়ার্ক করছি। আমাদের অবস্থা ভালো। আমরা আশা করছি জাহাঙ্গীর ভাই বিপুল ভোটে পাস করবেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার আগে থেকেই আমরা কাজ করছি। ফলে বিএনপির মাঠ গোছানোই ছিল।
আসনটিতে এনসিপির অবস্থান জানতে জহির উদ্দিন বাবু বলেন, জামাতের লোকজন অর্থের লোভ দেখাচ্ছে। এতে লাভ হবে না। তাদের কর্মকাণ্ড চলছে। গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল আশরাফুল হকের। তিনি প্রার্থী না হওয়ায় স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের কর্মকাণ্ডও সেভাবে চোখে পড়ছে না।
তবে জামায়াত সমর্থিত এনসিপিই এই আসনে জয়ী হবে বলে বলে আশা প্রকাশ করেন ঢাকা-১৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রচার বিভাগের প্রধান কামরুল হাসান। জাগো নিউজকে কামরুল হাসান বলেন, আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ। কারণ এই আসনে জামায়াতের শক্তিশালী ও মজবুত ভিত্তি রয়েছে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে জামায়াতের একটা সাংগঠনিক শক্তি রয়েছে। ওয়ার্ড কমিটিতে আবার ১৫ থেকে ২০টি করে ইউনিট কমিটি রয়েছে। এভাবে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে জামায়াতের। শিবিরের এখানে ১৮টা সাংগঠনিক থানা রয়েছে। জামায়াতের এখানে ২৭০০ রুকন আছেন। কর্মী আছে ৫০ হাজারের কাছাকাছি। তো এই বিশাল ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক নিয়ে জামায়াত গত এক বছর ধরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করছে। গোটা নেটওয়ার্কটা এখন শাপলা কলির পক্ষে কাজ করছে। যার ফলে আমরা একেকজন ভোটারের কাছে অন্তত পাঁচ থেকে সাতবার করে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। ভোটাররা পরিবর্তন চান ও চাঁদাবাজদের ভোট দিতে চান না। রাজনৈতিক একটা গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে ভোটাররা ১২ তারিখ শাপলা কলিতে ভোট দিয়ে ১১ দলকে বিজয়ী করবেন, ইনশাআল্লাহ।
এক সপ্তাহ আগের সরেজমিন চিত্র
এক সপ্তাহ আগে এই আসনের অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন এই প্রতিবেদক। তখন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দুই প্রার্থী বাদে অন্য কারো ব্যানার ফেস্টুন চোখে পড়েনি। ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মো. আনোয়ার হোসেনের ব্যানার ফেস্টুন চোখে পড়েছিল। তখন একটি এলাকায় লাঙল প্রতীকের জাতীয় পার্টির মো. জাকির হোসেনের একটি নির্বাচনি অফিস চোখে পড়ে। সেখানে নেই কোনো চেয়ার-টেবিল। বরং সাইকেলের গ্যারেজের সামনে ত্রিপল দিয়ে যে সেই অফিসটি করা হয়েছে- এক নজর তাকালেই সেটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ব্যানার ফেস্টুন চোখে না পড়লেও একই এলাকায় মাইকে করে হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল হোসেনের প্রচারণা চোখে পড়ে। আর আলোচনায় থাকায় এই আসনের শাপলা কলি প্রতীকের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) আরিফুল ইসলামের ব্যানার-ফেস্টুনও তখন একেবারেই চোখে পড়েনি। অন্যদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। তবে বর্তমানে চিত্র পাল্টে গেছে। এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকের ব্যানার ফেস্টুন এখন সর্বত্র। হরিণ প্রতীকের প্রচারণাও এখন চোখে পড়ার মতো।
ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী যারা

ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থী ছিলেন ১০ জন। তবে, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। এ কারণে এ আসনটিতে বর্তমানে প্রার্থীর সংখ্যা ৯ জন। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, শাপলা কলি প্রতীকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) আরিফুল ইসলাম, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মো. আনোয়ার হোসেন, লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মো. জাকির হোসেন, রেল ইঞ্জিন প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার, মই প্রতীকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের সৈয়দ হারুন-অর রশীদ, আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মিসেস সামিনা জাবেদ, মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. জসিম উদ্দিন, হরিণ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল হোসেন এই আসন থেকে নির্বাচন করছেন।
ঢাকা -১৮ আসনে ভোটার
ঢাকা-১৮ আসনটি উত্তরা, বিমানন্দর, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও মোল্লারটেক নিয়ে গঠিত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১, ১৭, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড এই আসনের মধ্যে পড়েছে। এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫০। এই আসনে নারী ভোটার ৩ লাখ ৮২৭ জন। এই আসনে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৬ জন।
ইএইচটি/এএমএ