সংরক্ষিত আসনের গণ্ডি পেরোতে পারছেন না নারীরা
দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও মূলধারার রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ এখনও উপেক্ষিত। গেলো ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার মাত্র ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ ছিল। ৮৬ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র সাতজন। এর মধ্যে ছয়জন বিএনপির এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বিএনপির এই নারী সংসদ সদস্যদের প্রায় সবাই সরাসরি তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসেননি; বরং পারিবারিক রাজনৈতিক আনুকূল্যের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। তাদের মতে, দলীয় রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ এমনিতেই সীমিত। এর মধ্যেও মনোনয়নের ক্ষেত্রে পরিবারতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় তৃণমূল থেকে দীর্ঘদিন মাঠে রাজনীতি করা অনেক নারী নেত্রী উপেক্ষিত থেকে যান।
অন্যদিকে, ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। বরং দলের প্রধান পদে নারী আসতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দলের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটি সম্ভব নয়।’ তিনি তখন নারীর শারীরিক সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

এর বাইরে এবারও সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত। তবে নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, সংরক্ষিত নয়, নারীরা এখন সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে আসার যোগ্যতা রাখেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে। আসন অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে দলটি পাবে ৩৫টি। এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসন পাবে। অন্য তিনটি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিজস্ব প্রতীকে জয়ী ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে। এসব দল হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ ও খেলাফত মজলিস।
যদিও সরাসরি নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি, তবু সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। এ ক্ষেত্রে দলের মহিলা বিভাগের মতামত নেওয়া হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।

বিএনপি থেকে আসন পাবে ৩৫টি
ময়মনসিংহের গৌরীপুরের মেয়ে তানজীন চৌধুরী লিলি। ১৯৯৬ সালে গৌরীপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। তানজিন লিলি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পাননি। তবে এবার সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার।
অন্যদিকে, তারই রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রাজীব আহসান বর্তমানে নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। লিলি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন, তখন রাজীব আহসান ছিলেন জসীমউদ্দীন হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই সময়ে রাজনীতি শুরু করলেও লিলি ও রাজীবের রাজনৈতিক অবস্থানের এই পার্থক্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী ও পুরুষের বৈষম্যকে স্পষ্ট করে।
তানজীন চৌধুরী লিলি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মধ্যদিয়েই মূলত আমার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে সরাসরি ভোটে জয়ী হয়েছি। আমি সবসময় সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে যেতে চেয়েছি। কিন্তু দল থেকে এখনও সে সুযোগ পাইনি। হয়ত নারী বলেই পিছিয়ে পড়েছি। তাই সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক নারী নেত্রী শাহীনুর নার্গিসও ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক ও মহিলা দলের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। গত ১৭ বছরে ৩৫টি মামালার আসামি হন তিনি। এসব মমলায় দীর্ঘদিন জেলও খেটেছেন। তিনিও ২০১৮ সালের নির্বাচনে নরসিংদী থেকে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নার্গিসের নামও সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য শোনা যাচ্ছে।
শাহীনুর নার্গিস বলেন, ‘আজীবন দলের জন্য কাজ করেছি। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। দলের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ছিলাম। সরাসরি নির্বাচনে জেতা তো একজন রাজনৈতিক কর্মীর স্বপ্ন। তবে সেটা না পেলেও সংরক্ষিত নারী আসনে পদ প্রার্থী। আশা করি দল মূল্যায়ন করবে।’

জামায়াত ঠিক করছে নারী সংসদ সদস্য
প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ঠিক করছে। এ জন্য মহিলা বিভাগ থেকে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি আইনজীবী সাবিকুন্নাহার, সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম, মহিলা বিভাগের সদস্য ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজের নাম আলোচনায় আছে। এ ছাড়া ভিন্ন ধর্মাবলম্বী থেকেও একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে একজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী এর আগে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন পায় দুটি ও ২০০১ সালে অষ্টম সংসদে পেয়েছিল চারটি আসন।
জামায়াতের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারদিয়া মুমতাজ বলেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন মূলত তিনটি উপাদান নিয়ে গঠিত। প্রথম, রাজনৈতিক মতামত তৈরি; দ্বিতীয়, সেই মতামত প্রকাশ; এবং তৃতীয়, জনপ্রতিনিধিত্ব।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম দুই ক্ষেত্রে জামায়াত তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছে। কারণ তাদের মহিলা বিভাগ একটি স্বতন্ত্র বিভাগ, যা পূর্ণ নেতৃত্বে নারীদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এর ফলে নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে—পেশাজীবী, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, প্রকাশনা এবং বড় প্রোগ্রাম আয়োজন—স্বতন্ত্রভাবে সক্রিয়। রাজনৈতিক মতামত তৈরির ক্ষেত্রে জামায়াতের নারীরা দেশজুড়ে গ্রামে-গ্রামে পৌঁছেছেন, যা অন্য কোনো দলের নারীরা সাধারণত করেন না।
নারীদের রাজনীতিতে না আসার জন্য নিরাপত্তা সংকটকেও দায়ী করা হয়। তবে মারদিয়া মুমতাজ ব্যাখ্যা করেন, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দীর্ঘ সময় ধরে পুরুষদের ঘরের বাইরে থাকার কারণে মহিলারা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। এছাড়া জোটের কারণে আসন ভাগাভাগি করতে হয়েছে। এসব কারণে জামায়াত ইসলামী কোনো নারী প্রার্থী দিতে পারেনি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী নির্বাচনে ৫ শতাংশের বেশি নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।

আলোচনায় এনসিপির দুই নারী
এনসিপি সংরক্ষিত নারী আসনে একজনকে পাঠাতে পারবে। এ পদের জন্য আলোচনায় আছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম (মিতু)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা দুজনেই। মনিরা শারমিন নওগাঁ-৫ আসন থেকে এবং মাহমুদা আলম (মিতু) ঝালকাঠি-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানান। তবে দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত তাদের দুজনকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হয়।

চমক দেখিয়েছেন রুমিন ফারহানা
‘পারি না, হবে না’ এসব বুলি উড়িয়ে দিয়ে এবার সংসদ নির্বাচনে দাপুটে জয় দেখিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একাই ভোটের মাঠে লড়াই করে জয়ী হয়েছেন তিনি।
রুমিন ফারহানা জাগো নিউজকে বলেন, নারীদের জন্য সবকিছুই কঠিন। তারপরেও বহু নারী সব বাধা পার হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে। অথচ নির্বাচনে তারা মনোনয়ন পান না। আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রশ্ন করুন তাদের কি ৫ শতাংশ নারীও নেই যারা সরাসরি ভোটে পাস করে আসতে পারে? অবশ্যই আছে। কিন্তু দলের পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, পরিবারতন্ত্রকে প্রাধান্য দেওয়াসহ নানা কারণে নারীদের ঠেলে পেছনে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, ইচ্ছে থাকলেও সংরক্ষিত আসনে থেকেও অনেক কিছু করা যায়। তবে সেখানকার ক্ষমতা অবশ্যই সেটা সরাসরি নির্বাচিত হয়ে আসার মতো নয়।

সক্রিয় ছিলেন তাসনিম জারা
ঢাকা-৯ আসনে এবারের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। শেষ সময়ে দল থেকে বেরিয়ে এসে একাই লড়েছেন নির্বাচনে। হেরে গেলেও তার এই সাহসী পদক্ষেপ ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অনেক রাজনৈতিক দল নারীদের কেবল ‘প্রতীকী’ হিসেবে ব্যবহার করে। তৃণমূল পর্যায়ে নারীকর্মীরা সক্রিয় থাকলেও মনোনয়নের সময় পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো আবার পুরুষদেরই বেছে নেয়। এছাড়া সংরক্ষিত আসনের নারীরা সরাসরি নির্বাচিত না হওয়ায় তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা খর্ব হয় এবং দায়বদ্ধতাও জনগণের চেয়ে দলের প্রতি বেশি থাকে।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন হেনস্তা বা সাইবার বুলিং দেখে অনেক তরুণী রাজনীতিতে আসার সাহস হারাচ্ছেন। তাই একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে অনেক নারী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের সংসদে যাওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। নির্বাচনি ব্যবস্থায় কাঠামোগত বাধা, ক্রমবর্ধমান জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা এবং সাইবার বুলিং নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্বকে রুদ্ধ করছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর লিপিকা বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, মূলধারার রাজনীতিতে দলগুলো তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে না। মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটিগুলোতে নারীদের উপস্থিতি খুবই কম। আবার রাজনীতিতে অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাবও বড় একটি কারণ। যাদের অর্থ ও প্রভাব বেশি, তারা মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে থাকে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ ও লবিংয়ের ক্ষেত্রেও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে। এই জায়গাগুলোতেই নারীরা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়েন।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আমরা এখনো নারীকে যোগ্য মর্যাদার আসনে বসাতে পারিনি। নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন থেকে আমরা অনেক দূরে। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাই এর জন্য দায়ী। দীর্ঘদিন নারী নেতৃত্ব থাকলেও শৃঙ্খল থেকে আমাদের নারীরা মুক্ত হতে পারেনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারীদের সংসদে আনার পথ হয়ে উঠেছে সংরক্ষিত আসন। যদিও সংরক্ষিত আসনের ক্ষমতা অনেকটাই সীমাবদ্ধ বলে মনে করেন অনেকে। এছাড়া যারা রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসতে পেরেছেন, তাদের একটি বড় অংশই রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসা। শক্তিশালী পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমি না থাকলে মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করেও অনেক নারী নেত্রী সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান না।
জেন্ডার বিশ্লেষক লিপিকা বিশ্বাস মনে করেন, নারী প্রার্থীর ব্যাপারে দলগুলোতে আইনি কাঠামো থাকা উচিত। যাতে করে তারা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থী নারী দিতে বাধ্য হন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো দীর্ঘ তিন দশক নারী নেতৃত্ব থাকলেও এ ধরনের কোনো কাঠামো গড়ে ওঠেনি।
তিনি বলেন, নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা খুব কার্যকর হয়ে উঠতে পারেনি। এর প্রধান কারণ, এসব আসনের সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনি এলাকা থাকে না এবং তারা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা সাধারণত রাজনৈতিক দলের মনোনয়নের মাধ্যমে সংসদে আসেন। কিন্তু এই মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ কোনো মানদণ্ড থাকে না এবং অনেক সময় লবিংয়ের মাধ্যমেও মনোনয়ন পাওয়া যায়। ফলে তারা অনেক ক্ষেত্রে দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে জোরালোভাবে কোনো ইস্যুতে কথা বলতে পারেন না। তবে এমন পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশাবাদী তিনি।
জেপিআই/এসএনআর/এমএমএআর